গ্যালারি মাতানো পাগলা মুজিবর আবাহনী সমর্থক হওয়ার পেছনের গল্প

ঢাকার ফুটবল উন্মাদনা

পাগলা মুজিবর এমন একটি নাম, যে নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সত্তুর ও আশির দশকে ঢাকার ফুটবলের উত্তাল সময়কালের আনন্দ-বেদনা, দুঃসহ স্মৃতির রক্তাক্ত ইতিহাস। আজ ফুটবল উন্মাদনার সেই সময়কালের পাগলা মুজিবর কিভাবে আবাহনীর সাপোর্টার হলেন, সেই গল্প বলবো।

এ যেনো রুপকথার গল্পের চেয়েও কম নয়। পাগলা মুজিবরের পরিবারের সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।তার বড় ভাই জালাল উদ্দীন তৎকালীন মিটফোর্ড এলাকার কাটারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। তখন বাবু বাজার, মিটফোর্ড ও কাটারা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বাদশা ভাই, বাচ্চু, জব্বার ও জলিল প্রমূখ। স্বাধীনতার পর কয়েক বছর না যেতেই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে জাসদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠন’র সঙ্গে জাসদের সংঘাত-বিরোধ যেনো নিত্য দিনের ঘটনায় পরিনত হয়েছিলো।মিটফোর্ড স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজেও ছাত্রলীগের সঙ্গে জাসদ ছাত্রলীগের বিরোধ তৈরী হয়। এই বিরোধ মিটাতে মিটফোর্ড আসেন জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল। সময়কাল ৭৩/৭৪ সাল হবে। স্হানীয় আওয়ামীলীগ নেতা পাগলা মুজিবরের বড় ভাই জামালসহ স্হানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শেখ কামাল।

এ সময় শেখ কামাল আমার বড় ভাই জামালকে বলেন, “আমি আবাহনী নামে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে একটি দল গঠন করেছি। আমার আবাহনীর জন্য গ্যালারিতে কিছু সমর্থক দিতে হবে।”

তখন আমার বড় ভাই জামাল জানান, “আমার ছোট ভাই একজন ফুটবল খেলোয়াড় ও ফুটবল পাগল দর্শক। তাকে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিবো।

শেখ কামাল বললেন, “তাকে আবাহনী ক্লাবে পাঠিয়ে দিতে।“

ষোল /সতেরো বছরের কিশোর ফুটবলার মুজিবর মহা-আনন্দে পর দিনই বিকেলে তৎকালীন শংকরে ভাড়া বাড়িতে অবস্থিত আবাহনী ক্লাবে গিয়ে হাজির হন। কিন্তু জানতে পারেন শেখ কামাল সন্ধ্যার পর ক্লাবে আসবেন। তাই বিকাল থেকেই অপেক্ষা। সন্ধ্যায় আসলেন শেখ কামাল। মুজিবর দেখা করলেন শেখ কামালের সঙ্গে বললেন,“আমার বড় ভাই মিটফোর্ডের জামাল আপনার কাছে পাঠিয়েছে।“ শেখ কামাল আন্তরিকতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে বললেন, “আমার ফুটবল দল আবাহনীর জন্য সমর্থক জোগাড় করতে হবে।গ্যালারিতে আমার দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে হবে।“ মুজিবর বললেন, “ইনশাআল্লাহ আজ থেকেই আমি আপনার হাতে গড়া এই দলের সমর্থক। গ্যালারিতে সমর্থক নিয়ে যাওয়া আমার দায়িত্ব।“

এভাবেই সত্তুর ও আশির দশকে ঢাকা স্টেডিয়ামে আবাহনীর গ্যালারিতে ফুটবল পাগল সমর্থক মুজিবর আবাহনীর সমর্থক হওয়ার বর্ননা করছিলেন। আবাহনী ক্লাবে শেখ কামালের সঙ্গে পরিচয় ও কথা হওয়ার পর তাকে ২শ টাকা দিয়ে বলেছিলেন, “আবাহনী”র খেলার আগের দিন তার সঙ্গে ক্লাবে দেখা করে যেতে। সে অনুযায়ী পাগলা মুজিবর আবাহনীর প্রতিটি খেলার আগের দিন সন্ধ্যার পর ক্লাবে শেখ কামালের সঙ্গে দেখা করতেন আর শেখ কামাল তাকে ২শ টাকা আর ২০/২৫ টি গ্যালারির টিকেট বা সমর্থক পাশ দিয়ে দিতেন। আনন্দে মুজিবর তার সহপাটি খেলোয়াড় আজিজ, টুটুল,দেলোয়ার ও নওয়াবসহ ২৫/৩০ জন কিশোরকে নিয়ে তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামের পশ্চিম দিকে ১৯ নাম্বার গ্যালারিতে বসে আবাহনীর সমর্থন করতেন। কখনো ব্যান্ড, বাদ্য- বাজনা নিয়ে গ্যালারিতে যেতেন খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতেন।  দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে বললেন, “তখন ঢাকা স্টেডিয়াম ছিলো মূলতঃ মোহামেডান, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও স্বল্প সংখ্যায় বিআইডিসি”র সমর্থকদের দখলে। আবাহনীর নাম নেয়ার কোন লোক পাওয়া যেতো না। বরং আবাহনীর সমর্থন করলে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সমর্থকরা গ্যালারিতে চাপাতি, হকিস্টিক, লাঠি সোটা নিয়ে হামলা করতো, বেদম মারপিট করতো। আর এই হামলার নেতৃত্ব দিতো ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সমর্থক নাজিরা বাজারের দুলা মিয়া। মূলতঃপাকিস্তান আমলে দুলা মিয়ার হাত ধরেই কিশোর বয়সে ফুটবল খেলা শুরু ও ঢাকা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা শুরু করেছিলেন পাগলা মুজিবর। তখন আবাহনী দল ছিলো না ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের খেলা দেখতেন ঢাকা স্টেডিয়ামে। তাই স্বাধীনতার পর মুজিবর ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সমর্থন বাদ দিয়ে স্বাধীনতাত্তোর ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে নতুন দল আবাহনীর সমর্থক হওয়ায় দুলা মিয়া”র ক্ষোভ ছিলো বলছিলেন,পাগলা মুজিবু।“

সত্তুর ও আশির দশকে ঢাকা স্টেডিয়ামে আবাহনীর গ্যালারিতে নেচে-গেয়ে শারীরিক নানা অঙ্গভঙ্গি আর কসরতে দর্শক মাতিয়ে রাখতেন পাগলা মুজিবর। সারা দেশেই তিনি পাগলা মুজিবর নামে পরিচিত ছিলেন। ঢাকার ফুটবলের সেই উন্মাদনা আর উত্তাল সময়ের স্মৃতি কথা আর গ্যালারিতে আবাহনীর সমর্থন করায় জীবনের মর্মস্পর্শী ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কখনো অবুঝ শিশুর মতো কেঁদেছেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী পুরান ঢাকার মিটফোর্ড টাওয়ারের পাশে বসে ঢাকার ফুটবলের স্মৃতিচারণ করছিলেন পাগলা মুজিবর। সত্তুর ও আশির দশকে ঢাকা স্টেডিয়ামে মোহামেডান- আবাহনীর খেলার দিন বিকেলে খেলা হলেও দুপুর ১২ টা থেকেই দু”দলের দর্শকরা গ্যালারিতে প্রবেশ করতে শুরু করতেন। এ সময় খেলা শুরুর তিন/চার ঘন্টা আগে থেকে মাঠের লড়াই শুরুর আগে দুই দলের দর্শকদের মাঝে চলতো গ্যালারীতে নানা স্লোগানে একে অপরকে আক্রমণ করা, পাল্টা জবাব দেয়া আর সবই হতো কাগজে লিখে প্রদর্শনের মাধ্যমে। কারণ তখন ডিজিটাল ব্যানারের যুগ ছিলো না। পাগলা মুজিবরের দিকে নজর শুধু আবাহনীর দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো না, খোদ প্রতিপক্ষ মোহামেডানের সমর্থকরা নজর রাখতেন পাগলা মুজিবরের নানা অঙ্গভঙ্গি আর নাচের দিকে। ব্যান্ডের তালে তালে নেচে গেয়ে গ্যালারিতে দর্শকদের মাতিয়ে রাখতেন খেলা শুরুর আগে। শারীরিক নানা অঙ্গভঙ্গি করে দেখাতেন প্রতিপক্ষের গ্যালারির দিকে। আনন্দে দিশেহারা হয়ে কখনো কখনো লুঙ্গি মাথায় বেধে নাচতেন তার সঙ্গে পুরো গ্যালারিতেই নাচের ঢেউ উঠতো। উত্তেজনায় দিশেহারা হয়ে কখনো কখনো লেংটা হয়েও নাচতে থাকতেন। তাই গ্যালারিতে তার টাইটেল হয় পাগলা মুজিবর। অনেক দর্শক কবুতর উড়িয়ে আবার কেউ ঘুড়ি-বেলুন উড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করতেন। আর বাজি ফুটানোতেও হতো প্রতিযোগিতা, কার বাজির শব্দ বেশী। কঠোর নিরাপত্তা বেধ করে গ্যালারি থেকে রশি ফেলে ব্যাগ ভরে নীচ থেকে উপরে গ্যালারিতে উঠাইতেন নরসিংদীর বড় বড় বাজি।

ফুটবলের সেই উন্মাদনায় আনন্দের স্মৃতিচারণ করে পাগলা মুজিবর বললেন, “আবাহনীর সঙ্গে লীগ ফাইনালে রহমতগঞ্জের খেলা সম্ভবতঃ১৯৭৭ সাল। প্রথমে আবাহনী ১ গোলে পিছিয়ে ছিলো। এরপর সালাউদ্দিন ভাই মাঝমাঠ থেকে রহমতগঞ্জের দুইজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাহির থেকে অসাধারণ এক শটে রহমতগঞ্জের গোলপোস্ট থেকে এগিয়ে থাকা গোলরক্ষক মোতালেবের মাথার উপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে খেলায় সমতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই গোলটি আজও আমার স্মৃতিতে অম্লান ও মহাআনন্দের। আজও ভুলতে পারিনি।

এছাড়া শেখ কামাল ভাই জীবিত থাকতে ৭৩/৭৪ সালে আবাহনী-ভিক্টোরিয়ার খেলা। মাঠে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। কামাল ভাই মাথার উপর ছাতা তুলে মাঠের পাশে সাইড লাইনে বসে খেলা দেখছিলেন। সঙ্গে ছোট ভাই রাসেলও ছিলো। আমি গ্যালারি থেকে কাঁটাতার টপকে মাঠে গিয়ে কামাল ভাইকে বললাম, “আপনার পেছনের অনেক দর্শক ছাতার জন্য খেলা দেখতে পারছে না, দর্শকরা রাগারাগি করছেন। এরপর তিনি ছাতা বন্ধ করে বৃষ্টিতে ভিজেই খেলা দেখলেন আর আমি ছোট্ট রাসেলকে আমার কোলে নিয়ে বসলাম। আবাহনী সেই দিনের খেলায় বড় ব্যবধানে(সম্ভবঃত ৮/১০ গোলের) জয়ী হয়েছিলো।

৬৪ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ ফুটবল পাগলা মুজিবর বললেন, “আবাহনীর সমর্থন করে বহুবার গ্যালারিতে, রাস্তায় স্টেডিয়ামের বাহিরে মার খেয়েছি। সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা মনে করতেই তার চোখ বেয়ে পানি পড়ছিলো। পাগলা মুজিবর অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন, “আবাহনীর সঙ্গে আরামবাগের খেলা, আবাহনী ২-১ গোলে আরামবাগকে হারিয়ে দেয়। খেলা শেষ আরামবাগের( ওরা মূলতঃ মোহামেডান) সমর্থকদের সঙ্গে প্রথমে ইট মারামারি ও পরে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আমি আনন্দের উত্তেজনায় আবাহনীর গ্যালারি থেকে আরামবাগে( মোহামেডান)”র গ্যালারিতে প্রবেশ করে তাদের ধাওয়া করি। একপর্যায়ে ওরা আমাকে ঘেরাও দিয়ে আটকে ফেলে। এসময় আমাকে বেদম মারপিট করে আমার একটি হাত ভেঙ্গে দেয়। আমার সারা শরীরে জখম করে। রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও মনে হলে আতঙ্কিত হই। এছাড়া আমি নিয়মিত আবাহনীর গ্যালরিতে ১৯ নাম্বার গেট দিয়ে প্রবেশ করতাম। তখন ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বহু সমর্থক ছিলো। সালটা মনে করতে পারছি না, সম্ভবত ১৯৭৩/৭৪ হবে। তখন নাজিরাবাজারের ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সাপোর্টার দুলা মিয়া আগে থেকেই আমার আসার পথ অনুসরণ করে আমি ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগেই মনে হয় পল্টন মসজিদের কাছ থেকে আমাকে ধরে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ভিতরে নিয়ে যায়। দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত বেঁধে রাখে, মারধর করে, কেন আমি আবাহনীর সাপোর্ট করি? এরপর অনেক রাতে আমাকে ছেড়ে দেয়। সেই দিন আর আবাহনীর খেলা দেখা হয়নি।মনে অনেক কষ্ট ও দুঃখ পেয়েছিলাম। কামাল ভাইকে ক্লাবে গিয়ে জানালেও তিনি এতো ক্ষমতাবান হওয়া সত্বেও ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সাপোর্টাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি। বরং বলেছিলে, “তুমি ভয় পেয়ো না, ওদের ক্ষমা করে দাও, ওরা একদিন ওদের ভুল বুঝতে পারবে।“ কামাল ভাইয়ের এই মহানুভবতার কথা আজও পড়লে কান্না ধরে রাখতে পারি না। এই বলে তিনি চোখ মুছতে শুরু করলেন।

পাগলা মুজিবুর বলেন, “আমিই বাবুবাজার চৌরাস্তায় প্রথম আবাহনীর পতাকা উড়াই। সেটা৭৩/৭৪ সাল হবে। তখন বাবুবাজার, বংশাল,নয়াবাজার, জিন্দাবাহার ও নাজিরা বাজার ছিলো ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের ঘাটি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের উগ্র সাপোর্টার দুলা মিয়া একবার রাস্তায় চাপাতি দিয়ে আমার ঘাড়ে কোপ দেয়। মহান আল্লাহর রহমতে আমি সরে যাওয়ায় বেঁচে গিয়েছিলাম। যখন মাঠে আবাহনীর নাম নেয়ারও একজন দর্শক পাওয়া যেতো না, তখন কামাল ভাইকে দেয়া ওয়াদার বরখেলাপ না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবাহনীর পতাকা হাতে গ্যালারিতে গিয়েছি বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে। তখন আবাহনীর গ্যালারিতে ভয়ে সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসতো। আমি আসার পর ব্যান্ড আর বাদ্যের তালে তালে নাচ শুরু করলে সবাই আমার চারপাশে জড়ো হতো। এভাবেই আস্তে আস্তে আবাহনীর সমর্থক বাড়তে শুরু করে।“

“এরমধ্যে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় জাতির জনক স্বপরিবারে শহীদ হলে আবাহনীর খেলোয়াড়দের মাঝে আতংক ও ভীতি তৈরী হয়। অনেকে বাড়িতে ঘুমাতেও সাহস পেতেন না। ৭৫এর ১৫ আগষ্টের পর যখন আবার ফুটবল লীগ শুরু হয়, তখন আবাহনী ফুটবল দল মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখেছি আমার সঙ্গে গ্যালারিতে হাজার হাজার দর্শববে করতালি আর উল্লাস করতে। তখন আমার চোখ বেয়ে পানি পড়ছিলো। কারণ শেখ কামাল ভাই জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেননি, তার দলের লাখো সমর্থক। এরপর ১৯৭৬ সালে আবাহনী লীগ রানার্সআপ হয়। ৭৭এ চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই থেকে আবাহনীর লাখ লাখ সমর্থক হতে শুরু করে। এই সমর্থক হওয়ার পেছনে কত রক্তাক্ত ইতিহাসে আমরা জড়িয়ে আছি, আজকের ক্লাব কর্মকর্তা বা সমর্থক গোষ্ঠীর অনেকেই হয়তো জানেন না। আজকে আবাহনীর এই বিশাল সাপোর্টার হওয়ার পেছনে আমাকে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সাপোর্টারদের জুলুম, অত্যাচার নির্যাতন হজম করতে হয়েছে।“

পাগলা মুজিবর বলেন, আবাহনীর আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে হারুণ ভাইয়ের অবদান চিরস্মরণীয়। পাগলা মুজিবর বলেন, “আবাহনীর সমর্থনই নয়, আমার বাবা, ভাইসহ আমরা সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কিছু চাওয়া বা পাওয়ার আশায় আবাহনী বা আওয়ামীলীগ করিনি। জাতির জনকের পরিবারের প্রতি ভালবাসার কারণেই করেছি। আজকের আবাহনী আর আগের মতো নেই। এখন দলের সমর্থকের চেয়ে কর্মকর্তা বেশী, সমর্থক গোষ্ঠীর নামে সব ধান্ধাবাজরা আজ ঘিরে আছে ক্লাবের চারপাশে। স্বাধীনতাত্তোর ঢাকার উত্তাল ফুটবলের এই পাগল সমর্থক মনে করেন, “ফুটবলের জনপ্রিয়তা ধ্বংসের পিছনের কারণ উচু মানের ফুটবলার তৈরী না হওয়া। সালাউদ্দিন, চুন্নু, নান্নু ও এনায়েতের মতো স্কিলফুল ফুটবলার এখন কোথায়? দর্শক কাদের খেলা দেখতে যাবে? ভাল মানের খেলোয়াড় তৈরী না হওয়ায় মাঠে দর্শক টানতে পারছে না। তাই ফুটবলের আজ করুণ পরিনতি।“

পাগলা মুজিবরের জন্ম পুরান ঢাকার ৩নং মিটফোর্ড রোড। তার পৈতৃক বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও। বর্তমানে ফরিদাবাদে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। মিটর্ফোড টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় একটি দোকান আছে, এটার ভাড়ায় তিনি চলেন। ৬৪ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ মুজিবর ব্যাক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তিন কণ্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তার দুঃখ পুরো পরিবার আওয়ামীলীগ ও আবাহনীকে জীবন বাজি রেখে সমর্থন করার পরও গত ১৪ বছর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্বেও একটি সন্তানকে সরকারি চাকরি দিতে পারেন নাই, সন্তানদের কাছে বাবা হিসেবে এটাই তার ব্যর্থতা।

আরও পড়ুন