জাল স্ট্যাম্প সৃজন করে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার নামে প্রতারণা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রতারক যুবলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। গত ১৬ মার্চ কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা এবং ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আবদুল্লাহ আল নোমান (৩৩) বাঁশখালী উপজেলার ইলশা গ্রামের আহম্মদ কবিরের ছেলে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ নগরীর কোতোয়ালি মোড় সংলগ্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে আধিপত্য বিস্তার, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং যান চলাচলে বাধা প্রদানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এসআই নাঈমুর রহমান তুহিনের দায়ের করা এই মামলায় (মামলা নং- ৩৬) নোমানকে ৬ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত বিচার আইন-২০০২ (সংশোধনী ২০১৯)-এর ৪/৫ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী আফতাব মাহমুদ ফাহিম।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, নোমান নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে দোকান ভাড়া দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত ১৩ এপ্রিল বিকেলে নগরীর রঙ্গম টাওয়ারের সামনে ভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলে আরও টাকা লেনদেনের সময় তাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
মামলার বিষয়ে ব্যবসায়ী আফতাব মাহমুদ বলেন, ” নোমান এক সময় আমার সিকিউরিটি ইনচার্জ ছিল। বিভিন্ন অভিযোগে আমি তাকে এখান থেকে বের করে দিই। কিন্তু সে আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এক ভদ্র মহিলার কাছ থেকে দোকান বরাদ্দের নামে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমি তাকে হাতেনাতে ধরেছি। এখন আমার মনে সন্দেহ বেঁধেছে, আমার অজান্তে সে আর কারো সাথে এমন করেছে কিনা। কারণ আমি বুঝতে পারতেছিনা সে কার কার সাথে এমন প্রতারনা করেছে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য।
এই বিষয়ে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আফতাব উদ্দিন বলেন, আমার থানায় তার বিরুদ্ধে ২ টি মামলা রয়েছে এবং সেগুলোতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিষয়ে আরো তদন্ত চলমান রয়েছে।