হাটহাজারী উন্নয়ন মীর হেলাল যেন একসূত্রে গাঁথা

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসেই চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) সংসদীয় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। সড়ক যোগাযোগ, সেতু-কালভার্ট, জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল খনন, পানি, বিদ্যুৎ ও সেচব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। এর মধ্যে ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রায় নেওয়া ৪৫০টি প্রকল্পের ৩২৯টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দে নেওয়া আরও ২৭টি প্রকল্পের সবকটির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ৪৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পে গড়ে ৬৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করে সবচেয়ে জরুরি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুরো সংসদীয় এলাকায় সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মসজিদ ও ঈদগাহকেন্দ্রিক ৩৮টি, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় ২৫টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়েছে ১৯টি প্রকল্প। সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি সেতু ও কালভার্ট। পানি, বিদ্যুৎ ও সেচ খাতের ৪৮টি সরকারি প্রকল্পও শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হাটহাজারী বাসস্টেশন এলাকায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের ফলে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। খাল ও নালা পরিষ্কারের কারণে জলাবদ্ধতার সমস্যাও আগের তুলনায় কমেছে বলে তাঁর মত।

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বিলে কৃষকদের জন্য সেচ প্রকল্পের পাইপলাইন নির্মাণ, শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, পশ্চিম চারিয়া কাজীপাড়া ও সন্দ্বীপ কলোনি এলাকায় সড়ক সংস্কার এবং মেখল ইউনিয়নের হারিয়াননালা খাল খনন।

হাটহাজারী পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা কমাতে বউবাজার থেকে দশতলা পর্যন্ত নালা পরিষ্কার, ফটিকা কামালপাড়া থেকে সেনবাড়ি হয়ে দশতলার পেছন পর্যন্ত নালা পরিষ্কার ও খাল খননের কাজও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি মেখল ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, চৌধুরীহাট জিসি থেকে মদুনাঘাট সড়ক সংস্কার, সুন্দরী ছড়া পুনঃখনন এবং বিভিন্ন মসজিদ ও সড়ক মেরামতের কাজও বাস্তবায়নাধীন।

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আল মুহসিনাত বালিকা হিফজখানায় ছাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপনের ফলে রাতের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও আলোকিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভার ওয়ার্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও চলছে। জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ৩ লাখ ৬২ হাজার চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ছয় মাস সময়ের হিসেবে খুব বেশি নয়। তবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এই সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বিভিন্ন খাতে দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রকল্পগুলোর তথ্য সমন্বিত ডাটাবেইসে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণ সহজে জানতে পারেন।

ভূমি সেবাকে আরও সহজ করতে স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ চালুর কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এর মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারি ফি জমা, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, খতিয়ান অনুসন্ধান ও যাচাইসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভূমিসেবা-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বর হেল্পলাইনও চালু রয়েছে।

আরও পড়ুন