সাতকানিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ

সাতকানিয়াসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বানভাসি মানুষ, যারা প্রায় সাত দিন যাবত কষ্ট করছেন- আমরা প্রথম দিন থেকে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন এর মাধ্যমে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সাতকানিয়া একটি বড় উপজেলা, ১৭টি ইউনিয়ন। হয়তোবা প্রথম দিনই সকল জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি, কিন্তু পর্যায়ক্রমে সকল জায়গায় পৌঁছেছি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার চট্টগ্রামেরে সাতকানিয়ায় ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করার প্রাক্কালে বাজালিয়া ইউনিয়নে বানভাসি মানুষের খোঁজ খবর নেওয়া ও ত্রান বিতরণকালে এসব কথা বলেন। আজ পুরো দিন প্রতিমন্ত্রী সাতকানিয়ার কেওচিয়া, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, বাজালিয়া, উপজেলা পরিষদ প্রভৃতি স্থানে যান ও বানভাসি মানুষের খোঁজ খবর নেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এ কষ্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কষ্ট পাচ্ছেন। তাই প্রথম দিন থেকে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছেন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী আমাকে সরকারের তরফ থেকে সরেজমিনে এখানে পাঠিয়েছেন, যাতে করে আমি বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনে সরকারের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারি।

সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদও বন্যাদুর্গতদের পাশে সর্বতোভাবে রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি ক্ষুধার্ত, নিরন্ন, পানিবন্দী মানুষের কাছে ইনশাআল্লাহ পৌঁছাবো। এবং প্রত্যেকের ঘরে খাবার পৌঁছে দেবো। তিনি বলেন, শুধু খাবার পৌঁছে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করব না। পানি নেমে যাবার পরে বসবাস অনুপযোগী ঘরবাড়ি সরকারের তরফ থেকে মেরামতের ব্যবস্থা করে দেবো ।

স্থানীয় মানুষের কাছে একটি মসজিদ ভেঙে যাওয়ার কথা শুনে জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, অনেক মসজিদ, মন্দির কিংবা মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—আমরা জানি। রাস্তাঘাটও ভেঙে পড়েছে। বর্তমান গণতান্রিবলক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত সবকিছু মেরামত করে দেবে।

সরকারের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, আনসার বাহিনী, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কোস্টগার্ড—সকলেই আমাদের কাজে সহায়তা করছে। আর প্রথম দিন থেকেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন তো রয়েছেই।

সকালে কালিয়াইশ ইকবাল কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাদুর্গত থাকাকালীন সময় বিভিন্ন এনজিও কিস্তি প্রদান বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন