চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনা এবং ঝুঁকি ঠেকাতে এবার মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেললাইনের আশপাশের জনবসতিতে গিয়ে স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছে রেলওয়ে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত গ্যাংকার ট্রেনে করে এ জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালান রেলওয়ের কর্মকর্তা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর পর সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা নজরে এসেছে। এতে যাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রেলের সম্পদও। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো অপরাধ প্রতিরোধে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে আসছে।
পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচারণাকালে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় থেমে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তুলে ধরেন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহতা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট।
লিফলেট বিতরণকালে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ কোনোভাবেই নিছক দুষ্টুমি নয়; এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি পাথরের আঘাতে ট্রেনের জানালা ভেঙে যাত্রী আহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিও ঘটতে পারে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয়দের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রেলওয়ে। কেউ চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখলে কিংবা এ বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে দ্রুত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের এ জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন আরএনবি চট্টগ্রামের সহকারী কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ সালামত উল্লাহ, সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এটিএম আতাউল গনি, এইএন চট্টগ্রামের মো. ওমর ফারুক, ষোলশহরের আইডব্লিউ কামরুল ইসলাম, ষোলশহর স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম, পিডব্লিউ কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতাও। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।