বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত)-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিবন্ধিত কার্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে রেস্ট হাউজে আহ্বানকে কেন্দ্র করে সমবায় আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সমিতির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান (সিওপিএস/পশ্চিম) এবং সম্পাদক (সচিব) মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমিতির একাধিক শেয়ারহোল্ডার। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে জেলা সমবায় কার্যালয়ের কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চললেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত) চট্টগ্রামের রেলভবনে অবস্থিত সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৮ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি নামে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে সমিতিটির প্রায় ২৫ হাজার শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন, যারা বাংলাদেশ রেলওয়ের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী। সমিতির গঠনতন্ত্র, সমবায় আইন-২০০১ (সংশোধিত-২০১৩) এবং সমবায় বিধিমালা-২০০৪ (সংশোধিত-২০২০) অনুযায়ী তিন বছর অন্তর ১২ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হয়। এর মধ্যে আটজন নির্বাচিত এবং চারজন মহাপরিচালক কর্তৃক মনোনীত হন।
অভিযোগকারীদের দাবি, সমবায় বিধিমালার ৪১ নম্বর বিধিতে নিবন্ধিত কার্যালয়ে মাসিক সভা আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা উপেক্ষা করে ১১ জুলাই ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে রেস্ট হাউজে আহ্বান করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গোপনীয়ভাবে নিবন্ধিত কার্যালয়ের বাইরে সভা আয়োজনের মাধ্যমে বিতর্কিত কিছু এজেন্ডা অনুমোদনের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিনে নিবন্ধিত কার্যালয়ের বাইরে সভা করে বিধিবহির্ভূতভাবে একজন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
সমিতির সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালে সমিতির একটি হিসাব থেকে এক কোটি টাকা উত্তোলন করে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল লতিফপুর এলাকায় বেনামে জমি কেনা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই জমির দখল পাওয়া যায়নি, ফলে সমিতির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী তফসিল পরিবর্তনের অভিযোগে জেলা সমবায় কার্যালয়ে একটি সালিশি (আরবিট্রেশন) মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
২০১০ সালে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছাড়াই মো. সাখাওয়াত হোসেন বিধিবহির্ভূতভাবে সম্পাদক পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আগের কমিটির কার্যক্রম বহাল রাখতে আদালতে রিট করা হয়। পরে আপিল বিভাগের নির্দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সমিতির সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পার্সোনেল অফিসার (সিপিও) তরুণ কান্তি বালা বলেন, সমিতির সব সভা নিবন্ধিত কার্যালয়েই করতে হয় এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। একজন সাংবাদিক বিষয়টি জানানোর পর আমি বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।
এ বিষয়ে সমিতির সম্পাদক (সচিব) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। তাই এবার সভাটি সমিতির কার্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে। আমরা সবসময় এভাবে সভা করি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাতায়াতসহ কিছু বাস্তবিক সমস্যার কারণে ঢাকায় সভার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমিতির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফেনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।