তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধনে তথ্য অধিদফতর (পিআইডির )ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কাছে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন ও সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস পরিদর্শনকালে পিআইডির সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিআইডির কাজের পরিধি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে যেখানে সমন্বয় ও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে, সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণকে সচেতন ও অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।শুধু সংবাদ প্রচার বা তথ্য সরবরাহ নয়, দুর্যোগের সময় জনগণকে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়াও তথ্য বিভাগের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
পিআইডির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে আরো মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রমগুলোকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠ ব্যাবহার ও সর্বোচ্চ সেবা এবং তথ্য প্রাপ্তি জনগনের দৌড়ঘোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ বিভিন্ন জেলা ও আঞ্চলিক অফিস পরিদর্শন করা একটি চলমান কার্যক্রম। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও অন্যন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্র্দেশনা দেওয়া হচ্ছে ।
মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যা, কর্মপরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন এবং জনগণকে আরো কার্যকর ও দ্রুত তথ্যসেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আঞ্চলিক তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের উপ প্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী চট্টগ্রাম পিআইডির কার্যক্রম সম্পর্কে একটা তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। এই সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।