দোহাজারী হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে হাজারো রোগী

​সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতিতে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়নের মানুষ ডেঙ্গু সন্দেহে দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ছুটে গেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষা-সেবা। হাসপাতালটিতে দীর্ঘ এক মাস ধরে নেই ডেঙ্গু সনাক্তকরণের প্রাথমিক উপাদান ‘এনএসওয়ান’ (NS1) কিট বা স্ট্রিপ। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শত শত রোগী এবং বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে বাড়তি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে তাদের।

​দোহাজারী হাসপাতালটি ৩১ শয্যার হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চন্দনাইশ উপজেলার ৩টি এবং পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ডেঙ্গু সনাক্তের কিট না থাকাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা দ্রুত হাসপাতালে পর্যপ্ত এনএসওয়ান কিট সরবরাহের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

​হাসপাতালে এনএসওয়ান স্ট্রিপ না থাকায় ডেঙ্গু সনাক্তকরণ ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রকিবুল হাসান মারুফ। তিনি জানান, “দোহাজারী হাসপাতালে গত এক মাস ধরে এনএসওয়ান কিট নেই, ফলে আমরা আইসিটি (ICT) দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কাউকে ডেঙ্গু রোগী বলে সন্দেহ হলে আমরা তাকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাচ্ছি। স্ট্রিপ এসে পৌঁছালে এখানে রোগী সনাক্তকরণে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।”

​রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. রশ্মি চাকমা। তিনি বলেন, “স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। রোগীদের সেবা সুনিশ্চিত করতে আমরা বর্তমানে নিজেদের অর্থায়নে এনএসওয়ান স্ট্রিপ কিনে সেবা দিচ্ছি। দোহাজারী হাসপাতালের আরএমও চাহিদা দিলে আমরা দ্রুত সরবরাহের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”

​বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, “দোহাজারী হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে এনএসওয়ান স্ট্রিপ সরবরাহের নির্দেশ ইউএইচএফপিও-কে এখনই দিয়ে দিচ্ছি।”

​স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে দোহাজারী হাসপাতালে দ্রুত কিট সংকট দূর হবে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।

আরও পড়ুন