চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক কিশোরকে পুলিশে দেওয়ার জেরে ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুঠোফোনে এই হুমকি দেন। তবে পরবর্তীতে থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের অভিভাবকদের সমঝোতায় ঘটনাটির মীমাংসা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) লোহাগাড়ার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহকে (১৫) স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের একটি গ্রুপ। ঘটনাটি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন তার সহকর্মী নাজিবকে সঙ্গে নিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেন। এরপর দ্রুত বটতলী স্টেশনের ইনসাফ রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে আবদুল্লাহর সহপাঠী ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আয়ানকে আটক করেন। তবে আবদুল্লাহকে মারধর করা অন্য কিশোরেরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আয়ানকে লোহাগাড়া থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন জানান, এক বছর আগে আয়ানকে হকিস্টিকসহ আটক করেছিলেন তারা। সে সময় অভিভাবকরা এসে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
আয়ানকে পুলিশে সোপর্দ করার পর শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমনের মুঠোফোনে একটি হুমকি সম্বলিত কল আসে। কল রেকর্ডে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি করে দেখাই যে, আমি করে তারপর বলি যে। আমি ডেভিড জিহাদ, আপনি থানায় গিয়ে মামলা দেন। আপনার ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ, আপনার ছেলে… আপনি ভুল জায়গায় হাত দিছেন, বুঝছেন!’।
জানা যায়, যে মুঠোফোন নম্বর থেকে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সেটির মালিক লোহাগাড়ার বার আউলিয়া কলেজের শিক্ষার্থী রিপন। তবে রিপন দাবি করেন, জিহাদ নামের ওই ব্যক্তি তার পরিচিত এবং সে তার ফোন নিয়ে কাউকে কল দিয়েছিল, কিন্তু কেন ও কাকে ফোন দিয়েছিল তা তিনি জানেন না।
প্রধান শিক্ষকের প্রতিবেশী ও স্থানীয় এক যুবদল কর্মীর সহায়তায় আটক হওয়া কিশোর আয়ানকে থানায় নিয়ে আসার পর মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লোহাগাড়া থানায় উভয়পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন বলেন, স্কুলের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা প্রথমে বিষয়টি থানাকে অবহিত করি। ছেলেগুলো ছোট হওয়ায় এবং তাদের অভিভাবকেরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না মর্মে নিশ্চয়তা দেওয়ায় আমরা থানায় সমঝোতায় এসেছি। তবে হুমকির ঘটনার পর থেকে আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি বড় কোনো ঘটনা নয়। শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যকার বিষয় হওয়ায় তারা নিজেদের মধ্যেই সমঝোতা করে নিয়েছেন। ‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির হুমকির বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা কল রেকর্ডের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।