চন্দনাইশে বন্যাকবলিত পশুর সেবায় নিয়োজিত ডা. ফেরদৌসী

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার আগ্রাসী পানি নেমে গেলেও দুর্গত এলাকাগুলোতে রেখে গেছে এক বুক হাহাকার। মাঠের ফসল থেকে শুরু করে গোয়ালঘরের গবাদিপশু- সবখানেই এখন শুধু ক্ষত আর সংকটের ছাপ। তবে দুর্যোগের এই চরম মুহূর্তে অসহায় ও অবোলা প্রাণীদের চিকিৎসায় দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার। তাঁর মানবিক ও অনন্য উদ্যোগ বন্যাদুর্গত খামারিদের বুকে নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে।

​বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে দোহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শঙ্খনদীর তীরবর্তী বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন বাড়ি ও ছোট ছোট খামারে ঘুরে ঘুরে গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করছেন খোদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। বন্যাকবলিত এলাকায় তাঁর কাছ থেকে সরাসরি এই সেবা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রান্তিক খামারিরা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোমর সমান পানি মাড়িয়ে, কখনো নৌকা আবার কখনো ভেলায় চড়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার পরিদর্শন করেছেন এই কর্মকর্তা। তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও তড়িৎ তৎপরতার কারণে উপজেলায় এবার বন্যায় কোনো গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটেনি। তবে বন্যার আগ্রাসী থাবায় কয়েকটি পোল্ট্রি খামারের হাঁস-মুরগি ভেসে গেছে এবং খামারে মজুদকৃত ফিড (খাদ্য) নষ্ট হয়ে খামারিদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

​স্থানীয় কয়েকজন খামারি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, কোমর সমান পানি মাড়িয়ে যেভাবে তিনি প্রতিটি খামারে ছুটে গেছেন তা সত্যিই বিরল। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে তাঁর এই নিরলস দায়িত্বশীলতা আমাদের সাহস জুগিয়েছে।” তবে খামারিদের শঙ্কা এখন গোখাদ্য নিয়ে। সরকারিভাবে দ্রুত গোখাদ্যের ব্যবস্থা করা হলে তারা এই চরম সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে জানান।

​মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান পরিস্থিতি জানাতে গিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার বলেন: ​”অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় মাঠ পর্যায়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা শতভাগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের জন্য আমরা ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।”

​তিনি আরও জানান, বন্যা পরবর্তী সময়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে গোখাদ্য নিয়ে। চারদিকে ঘাস ও খড় পচে যাওয়ায় অবোলা প্রাণিগুলো ক্ষুধার যাতনায় ছটফট করছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে জরুরি ভিত্তিতে গোখাদ্য বিতরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন