চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ৭টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট বাজারের দীঘির দক্ষিণ পাশে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে শামসুল আলমের সারের দোকান, আবু তাহেরের ডেকোরেশন ও লেপ-তোষকের দোকান, নাজিম উদ্দিনের লেপ-তোষকের দোকান ও কারখানা, জমির উদ্দিনের ইলেকট্রনিক্সের দোকান, রতন কর্মকারের কামারের দোকানসহ মোট সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে একটি দোকানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে স্থানীয়রা বাজারের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের আগুন নেভানোর জন্য ডাক দেন। পরে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতায় তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, ভোরে দোকানের কর্মচারী আমাকে ফোন দিয়ে আগুনের বিষয়টি জানান। এসে দেখি সব কিছু পুড়ে ছারখার। কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসা কয়েক মিনিটের আগুনে শেষ হয়ে গেছে। দোকানে থাকা সার, মালামাল, নগদ টাকা , আসবাবপত্র কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। এখন এই বর্ষাকালে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় আছি।
আরেক ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, আমার ডেকোরেশনের সরঞ্জাম ও লেপ-তোষকের সব মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনে অন্তত আমার ৬/৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন হবে।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।