চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বাবার কাছে আবদার করে মোটরসাইকেল কিনে দিতে হবে। বাবা কিনে না দেয়ায় অভিমান করে কীটনাশক বিষপানের দুইদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো.সাইদুর রহমান সায়মন (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার(২২ জুলাই)দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় মারা যায় সায়মন। এর আগে,গত রবিবার (২০ জুলাই) সকালে বিষপান করেছিল সে।
নিহত মো.সাইদুর রহমান সায়মন বোয়ালখালী পৌরসভার ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্ব গোমদণ্ডী দরপপাড়া বুদুরুছ চেয়ারম্যানের নতুন বাড়ীর মো.নাছেরের একমাত্র পুত্র। এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সায়মন বড়। সে চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে একটি অটোমোবাইল ওয়ার্কশপের কাজ শিখেছিলো। এক সপ্তাহ আগে সে খাগড়াছড়ি থেকে তার বাড়ীতে ছুটিতে এসেছে।
নিহত সায়মনের বাবা মো.নাছেরে বলেন,আমি বোয়ালখালী একটি ভবনে দারোয়ানের চাকরি করে ৪-৫ হাজার টাকা পান। এরমধ্যে সায়মন মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার বায়না ধরে। তাকে অনেক বুঝিয়েছিলাম।আমি যে টাকা পায় তাতে ঠিক মতো সংসার চলে না, কি করে মোটর সাইকেল দিবো। আমার ছেলে কথা শোনেনি।
সায়মনের মা শেলি আকতার বলেন,গত রবিবার সকালে সায়মন বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে আমরা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চমেক হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে তার পাকস্থলী ওয়াশ করার পর রাতে তাকে রিলিজ দিলে আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে চলে আসি। গত সোমবার (২১ জুলাই) রাতে হঠাৎ সায়মনের পায়খানা বমি শুরু হলে আবার ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার ভোরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়মনকে মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, সম্প্রতি ছেলেটার বাবা ধার দেনা শোধ করার জন্য অল্প কিছু জায়গা বিক্রি করেন। সেই টাকা থেকে মোটর সাইকেল কিনে দিতে বায়না ধরে সাইদুর রহমান সায়মন। মোটর সাইকেল কিনে না দেওয়ায় রবিবার সে বিষপান করে । এরপর হাসপাতালে ভর্তি করলে সে কিছুটা সুস্থও হয়ে ওঠে। তাকে পানিসহ খাবার না দিতে বলা হয়েছিলো। তবে সেটি তারা মানেনি। ফলে সে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মারা যায়।এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।