কিডনি রোগে চমেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন যুবদল নেতা আশিক, পাশে নেই বিএনপির কেউ

কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার যুবদল নেতা আশিক।

আশিকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বর্তমান কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য।

এছাড়াও তিনি হাটহাজারী উপজেলার ১০নং উত্তর মাদার্শা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা উপজেলা জুড়ে প্রশংসিত।। বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ দ্বারা বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকারসহ তাকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল- তা হাটহাজারীবাসীর কারো অজানা নয়।

তৎকালীন সময়ে তাকে এমনভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তার পরিবারপরিজন সহ দলের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়েছিল তার সেই হৃদয়বিদারক নির্যাতনের চিত্র দেখে।

এদিকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনরা।

দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত এই নেতার অসুস্থতার খবর জানার পরও দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

স্বজনরা জানান, কিডনি রোগে আক্রান্ত আশিক বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কারণে তার পরিবারও আর্থিক ও মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন।

তাদের প্রশ্ন—দুঃসময়ে দলের জন্য যারা মাঠে ছিলেন, অসুস্থতার সময় তাদের পাশে যদি দলীয় নেতাকর্মীরা না দাঁড়ান, তাহলে একজন কর্মীর কাছে সংগঠনের দায়িত্ববোধের অর্থ কী?

আশিকের পরিবারের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সেই রকম একজন নির্যাতিত ত্যাগী যুবনেতা আজ চমেক হাসপাতালে জীবনের শেষ প্রহর গুনছে, দলের পক্ষ থেকে দেখার যেন কেউ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা জানান, দলীয় রাজনীতিতে ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যায়ন শুধু সুসময়ে নয়—দুঃসময়েও একজন কর্মীর পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই তার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ।