পাহাড়তলী কলেজ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

চট্টগ্রাম পাহাড়তলী কলেজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি ও কলেজের শিক্ষক পরিষদের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার বলেন, কলেজের মাঠ ব্যবহারের অনুমতি, পতিত জমিতে কৃষিকাজ, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক পদবি দেওয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনে প্রভাবিত করা, গেট নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কলেজের মাঠ স্বল্প খরচে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। মাঠ ব্যবহারের বিপরীতে রশিদের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ কলেজ ফান্ডে জমা দেওয়া হয়। একইভাবে কলেজের পতিত জমি কৃষিকাজের জন্য চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এ থেকে প্রাপ্ত অর্থও কলেজ ফান্ডে জমা হয়।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তদন্তাধীন রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

তিনি দাবি করেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা, একজন শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক পদবি দেওয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন, গেট নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

সম্প্রতি অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমান চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে হামলার পর তাঁকে এবং তাঁর দুই সহকর্মীকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শ্যামল কান্তি মজুমদার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে যাচাই-বাছাইয়ের আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বোর্ডের সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক মো. হানিফ, সহকারী অধ্যাপক মমতাজুল হক, সহকারী অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম, সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তফা রাসেল, সহকারী অধ্যাপক খোকন কুমার দত্ত, প্রভাষক সাইফুল হক এবং প্রভাষক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।