অবৈধভাবে পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস এবং সিলিন্ডারে বেআইনিভাবে গ্যাস রিফিলের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গভীর রাতে এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুর রহমানের নেতৃত্বে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়খেকো ও অবৈধ চক্রের দুষ্কৃতকারীরা দ্রুত সটকে পড়ে। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে অভিযান শেষে ফেরার পথে ইউএনও দেখতে পান গভীর রাতে চারপাশ নিস্তব্ধ থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন মোড়ের দোকানে চলছে মানুষের জমজমাট জটলা। একদল তরুণ চায়ের কাপে ঝড় তোলার পাশাপাশি অনর্থক অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিশোরদের একাধিক দল।
সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম ও শান্তি বজায় রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে সোচ্চার হন ইউএনও। গভীর রাতে অনর্থক দোকান খোলা রাখা ও আড্ডাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। একই সাথে স্থানীয়দের কড়া বার্তা দিয়ে ঘরে ফেরার নির্দেশনা দেন এবং ব্যবসায়ী ও পথচারীদের আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এটি চন্দনাইশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষার ধারাবাহিক পদক্ষেপের একটি অংশ। এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবন, পরিবেশ বিনষ্ট করে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং উদীয়মান ‘কিশোর গ্যাং’-এর অপরাধমূলক তৎপরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমান বলেন, “গভীর রাতের এই অহেতুক আড্ডাই মূলত মাদক সেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্ম দেয়। তাছাড়া রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র পাহাড় কাটার মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়। উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে গভীর রাতে উপজেলা প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর অভিযানে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, নিয়মিত এই ধরনের তদারকি ও ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং ও পরিবেশ ধ্বংসকারী চক্রের দৌরাত্ম্য দ্রুত হ্রাস পাবে।