চট্টগ্রামকে রিজিওনাল বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাবে পরিণত করতে কাজ করবে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম: চেম্বার সভাপতি
চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে নবআঙ্গিকে ও উদ্যমে পথচলা শুরু করছে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম।
চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃত্বে গঠিত এই ফোরাম দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকার পর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও শুরু হয়েছে এর পথচলা।
চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক প্রায় ১২টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত পোর্ট ইউজার্স ফোরামের প্রথম সভা ২১ সেপ্টেম্বর বিকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং এই সময় চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
এ সময় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন-দীর্ঘদিন পর আবারও একটি ফেডারেল সংগঠন হিসেবে চালু হচ্ছে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম। বন্দর কেন্দ্রিক সকল সংগঠনকে নিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের অধীনে পরিচালিত হবে এই ফোরাম। ফোরামের সদস্য সংগঠনগুলোর যেকোন আন্তঃসংগঠন সমস্যা আলাপ-আলোচনা এবং সরকারের সাথে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সম্মিলিতভাবে দরকষাকষির মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি দ্রুত কমিটি গঠনের জন্য ফোরামের সকল নিয়মানুযায়ী সংগঠন থেকে দুইজন করে সদস্যের নাম প্রস্তাবের আহবান জানান।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন-ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লজিস্টিক ও বিনিয়োগ হাবে পরিণত হচ্ছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক, কাস্টমস সংক্রান্ত বা অন্যান্য দপ্তরভিত্তিক সমস্যা সমাধানে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের মাধ্যমে আমরা সকল ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার থাকবো। কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানো ও ইজ অব ডুয়িং বিজনেস নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীরাই নির্ধারণ করবে কিভাবে গড়ে ওঠবে এবং পরিচালিত হবে এই লজিস্টিক হাব। তিনি আরো বলেন-“ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরাই প্রথম”, সরকারকে এই নীতিতে থাকতে হবে। ব্যবসায়ীরাও বিদেশী বিনিয়োগ চায়। তবে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের যে সেক্টরে সক্ষমতা রয়েছে সেই সেক্টরে বিদেশী বিনিয়োগ নয়। যেসব সেক্টরে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা কম সে সকল সেক্টরে যৌথ অংশীদারিত্বে বিদেশী বিনিয়োগ আনা যেতে পারে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে যারা ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদেরকে বন্দর কেন্দ্রিক প্রাইভেটাইজেশানের সুযোগ দিতে হবে। না হলে দেশীয় ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং দেশ কাঙ্খিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করতে পারবে না।
সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন-ঐক্যবদ্ধ থাকলে বন্দর, কাস্টমস বা যেকোন সরকারি দপ্তর কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। তাই চট্টগ্রামের সকল সংগঠনগুলোকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এই ব্যবসায়িক নগরীকে নিজেদের মত করে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
অন্যান্য বক্তারা বলেন-দীর্ঘদিন ধরে বন্দর কেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিতে হতো। কিন্তু এই ফোরামের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোন সমস্যা সমাধান করা যাবে। তারা বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে এক হওয়ার আহবান জানান। অন্যান্যদের মধ্যে বিজিএমইএ’র পরিচালক মোঃ এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গোলাম সরওয়ার ও ক্যাপ্টেন মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কনভেনার হাজী মোঃ শফি, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন’র জেনারেল সেক্রেটারী খুরশিদ আলম ও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন’র পরিচালক মোঃ দিদারুল আলম ও ক্যাপ্টেন মোঃ সালা উদ্দিন চৌধুরী, বাফা’র পরিচালক (কাস্টমস) মোস্তাক আহমেদ তালুকদার ও পরিচালক (অফডক) আরিফুল আলম মজুমদার, মেডিটেরিয়ান শিপিং কোম্পানি লিঃ’র মোঃ আজমীর হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী গ্রুপের ডিএমডি শাহেদ সরোয়ার, চট্টগ্রাম বন্দর লাইটারেজ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি এম এম মুসা বাবলু, কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন’র নির্বাহী সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। এ সময় চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও এ. এস. এম. ইসমাইল খান, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এন্ড রিসাইক্লিং এসোসিয়েশন’র সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, বিকেএমইএ’র পরিচালক ফৌজুল ইমরান খানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।