সন্ত্রাস ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ হওয়া মহানগর ছাত্রদল নেতা মীর সাদেক অভির খুনিদের বিচার হবেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের এই দিনে আগ্রাবাদ এলাকায় যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিল, অভি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। সেই অপরাধে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসার পর আমরা ভেবেছিলাম সে সুস্থ হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাসায় ফিরে যাওয়ার পর রিইনফেকশন হয়ে সে আমাদের ছেড়ে চলে যায়। অথচ তার খুনি সন্ত্রাসীরা এখনও এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
রবিবার (২২ জুন) বাদে মাগরিব নগরীর আগ্রবাদ ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন হাসান আলী জামে মসজিদে আগ্রাবাদে মাদক কারবারিদের ছুরিকাঘাতে নিহত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল নেতা মীর ছাদেক অভির ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মীর অভি স্মৃতি সংসদের খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সন্ত্রাসী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান থাকবে। অভি একজন সাহসী যোদ্ধা ছিল। সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে। ৫২ র ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আমাদের ছাত্ররা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছে। সেই ধারারই অংশ ছিল অভি।
তিনি বলেন, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র ছিল অভি। মানুষের প্রতি তার ভালবাসার কারণেই সে এলাকাবাসীর কাছে অত্যাধিক প্রিয় ছিলেন। সামাজিক কর্মকান্ডে অভির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মাদকবিরোধী নানামূখী ভূমিকার কারণে সে সর্বমহলে সমাদৃত ছিল। অভির হত্যাকাণ্ডে আমাদের হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। অভির মৃত্যুর পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও হত্যাকারীদের এখনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। তাই অবিলম্বে অভির খুনিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নিয়াজ মো. খান, আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন, ইদ্রিস আলী, উত্তর পাটানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক হাজী মো. মহসিন, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, ডবলমুরিং থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর উদ্দিন সোহেল, এম এ হালিম, মহানগর তাতীদলের সাবেক আহবায়ক মনিরুজ্জামান টিটু, যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি মিয়া হারুন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, আবদুল আহাদ রিপন, অঙ্গ সংগঠনের মো. আলাউদ্দীন, বজল আহমেদ, এন মো. রিমন, আনোয়ার হোসেন, বশিরুল ইসলাম পলাশ, সামিয়াত আমিন জিসান সহ বিএনপি যুবদল ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।