চট্টগ্রামে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে এক ছাত্রদল নেতাসহ দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে দুইজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। তবে তিনি তাদের পরিচয় জানাতে পারেননি।
তিনি বলেন, দুইজনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম কলেজের ওয়াসিম আকরাম (২৩), অন্যজন পথচারী। তবে তার নাম আমরা জানতে পারিনি। এছাড়াও ৭-৮ জন আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল ভর্তি রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ শুরুতে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করলেও পরে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ শুরু করে। কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় ছাত্রলীগ পিছু হটলেও পরে আবার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দ্বিগুন বেগে হামলায় জড়িয়ে যায়।
এদিকে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে নগরীর দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার আগে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরাও ভাগ হয়ে ষোলশহর রেলস্টেশন, দুই নম্বর গেইট এবং মুরাদপুরে অবস্থান নেয়। দুই নম্বর গেইটে কোটাবিরোধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় ওয়াসা মোড় থেকে জিইসি হয়ে আসা একটি মিছিল থেকে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। উভয়পক্ষ পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। একইভাবে ষোলশহর রেলস্টেশনের সামনের সড়ক এবং মুরাদপুরেও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ চলছে। দুই নম্বর গেইট ও আশপাশের এলাকায় আট থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের কারণে নগরীর টাইগারপাস থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আশপাশের অন্যান্য সড়কগুলোতে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন আছে। তবে সংঘাতের মধ্যেও পুলিশ দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে বিএনপির দাবি নিহত ওয়াসিম আকরাম ছাত্রদল কর্মী। সে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এবং কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স থার্ড ইয়ারের ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া।