চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকার সল্টগোলা ক্রসিংয়ে রেললাইনের দুই পাশে রেলওয়ে ও বন্দরের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও ভাসমান বাজার। বন্দরের জায়গায় অনেক আগে থেকেই রয়েছে দোকানপাট। এরই মধ্যে রেললাইনের পাশের জায়গা দখল করে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে আরও দোকান। অভিযোগ উঠেছে, রেলওয়ের জায়গা লিজ নেওয়ার কথা বলে এসব দোকান নির্মাণ এবং ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা। সম্প্রতি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলেও দখলদারদের বাধার মুখে তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় সড়কের এক পাশে রেলওয়ের জায়গা দখল করে ফুটপাতের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে দোকান। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. হানিফ সওদাগরের উদ্যোগে এসব দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। সাইফুল নামে ওয়ার্ড বিএনপির এক সদস্যের মাধ্যমে দোকানপ্রতি প্রথমে ৫০ হাজার টাকা সালামি নেওয়া হয়েছে। পরে প্রতি মাসে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হানিফ সওদাগর। তবে রেলওয়ের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
হানিফ সওদাগরের দাবি, হাজী আব্বাস উদ্দিন নামে বন্দরের একজন ঠিকাদার জায়গাটি লিজ নিয়েছেন এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করছেন। তবে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ওই জায়গা কাউকে লিজ দেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বরং দোকান নির্মাণে বাধা দিতে গেলে দখলদাররা বন্দরের জায়গা বলে দাবি করেন। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, রেললাইনের পাশের রেলওয়ের জায়গা বন্দর কর্তৃপক্ষ কীভাবে বরাদ্দ দেয়?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “রেলের জায়গা বন্দর কীভাবে লিজ দেয়?”
এদিকে গত ২৪ অক্টোবর রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে হানিফ সওদাগরকে কথা বলতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই দিন মো. সাইফুলের কালো রঙের মোটরসাইকেলে সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার দোকানপাটের ভাড়া ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন সাইফুল নিজেই।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সম্প্রতি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-৩-সহ কয়েকজন কর্মকর্তা ওই জায়গা উচ্ছেদ করতে গেলে দখলদাররা বাধা দেন। এ সময় তারা জায়গাটি বন্দর থেকে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দোকান নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কয়েক দিনের মধ্যেই দোকান নির্মাণের কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ের জায়গায় এভাবে নতুন দোকান নির্মাণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রেলওয়ের আপত্তি এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশের পরও কীভাবে দোকান নির্মাণ সম্পন্ন হলো, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. হানিফ সওদাগর বলেন, “সাইফুল নামে আমি কাউকে চিনি না। আমি এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমার সঙ্গে সব সময় ৬-৭ জন সাংবাদিক চলাফেরা করেন। আমার নামে নিউজ করলে আমিও নিউজ করিয়ে দেব।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাইফুল বিষয়গুলো স্বীকার করে বলেন, “হানিফ সওদাগর আমাকে কেন চিনতে পারেননি, আমি জানি না। হয়তো তিনি অন্য কোনো দোকানদারের কথা বুঝেছেন। আপনি সন্ধ্যায় এলাকায় আসেন, কথা বলি।”