ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানো ছোট ভাই মো. ইকবাল হাওলাদারকে নির্যাতন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ভালো কোম্পানিতে চাকরি ও ভালো বেতনের আশ্বাসে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ইকবালকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. সোহাগ হাওলাদার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ প্রতিকার চেয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ফরিদপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ছোট ভাইকে জীবিত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মো. ইকবাল হাওলাদার ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি সৌদি আরবে যান। পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হাওলাদার সৌদি আরবে নিজের ছোট ভাই মাসুদ হাওলাদার থাকার কথা উল্লেখ করে ইকবালের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে, সেখানে ভালো কোম্পানিতে চাকরি ও ভালো বেতনের ব্যবস্থা হবে। এ আশ্বাসে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ইকবালকে সৌদি আরবে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি পরিবারের। সোহাগ হাওলাদারের অভিযোগ, তার ছোট ভাইয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং তার কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইকবলের যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফলে বর্তমানে তার ভাই কোথায় আছেন, কী অবস্থায় রয়েছেন এবং তিনি নিরাপদে আছেন কি না—তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে পরিবারটি।
অভিযোগকারী মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, “মোস্তফা হাওলাদার আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ভাইকে ভালো কোম্পানির ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হবে এবং সেখানে ভালো বেতনে চাকরির ব্যবস্থা হবে। কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার পর আমার ভাইয়ের এমন পরিস্থিতি কেন হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এখন আবার অতিরিক্ত পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ভাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার ওপর নির্যাতন বন্ধের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সোহাগ হাওলাদারের ভাষ্য, পরিবারের সদস্যরা এখনো ইকবলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্রুত তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা জরুরি।
অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোস্তফা হাওলাদার একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং শেখ হাসিনার ভারতে চলে যাওয়ার পর মোস্তফা হাওলাদার বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে পদ-পদবি পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোহাগ হাওলাদার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত তার ছোট ভাইয়ের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে তাকে জীবিত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
মানব পাচারের অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত মোস্তফা হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।