দুর্নীতির গল্পে জহিরুল যেন এক স্মরণীয় অধ্যায়

 

বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পদে সুবিধাজনক পোস্টিং, কথিত মাসোহারা আদায়, নিয়োগ পরীক্ষায় নম্বর কারসাজি এবং বিপুল সম্পদের তথ্য—বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চিফ কমান্ড্যান্ট মো. জহিরুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগের যেন শেষ নেই। ২০১৭ সালে ১৮৫ জন সিপাহী নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায়ও আসামি করা হয় তাঁকে। পাশাপাশি বদলি-পদায়ন থেকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—বাহিনীর ভেতর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। একের পর এক অভিযোগ, দুদকের মামলা এবং সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন সামনে এলেও এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি ও দায় নির্ধারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কতটা হয়েছে, তা নিয়েই এখন উঠছে প্রশ্ন।

দপ্তরাদেশের অনুমোদন কাঠামো উপেক্ষার অভিযোগঃ
বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয় থেকে সংশোধিত নির্দেশিকা ও দপ্তরাদেশ জারি করা হয়।

দপ্তরাদেশ অনুযায়ী, গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের আন্তঃজোনাল—অর্থাৎ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে—বদলির ক্ষেত্রে সরাসরি মহাপরিচালকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ ধরনের অফিস আদেশও ডিজির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রকাশ করার কথা। অন্যদিকে একই বিভাগের মধ্যে পদায়ন বা বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল বা জোনের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) লিখিত প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন।

তবে গত কয়েক বছরে আরএনবিতে জারি হওয়া একাধিক বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে এসব আনুষ্ঠানিক অনুমোদন যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও প্রশাসনিক অনুমোদনের কাঠামো উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার জিএম বা ডিজির নাম ব্যবহার করে আদেশ জারি করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের দাবি, গত কয়েক বছরের নোটশিট, বদলি ফাইল ও অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

বদলির আশ্বাসে লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগঃ
চিফ কমান্ড্যান্টের কাছে উপরমহলের মাধ্যমে সুপারিশ করে টাকা পৌঁছাতে পারলেই হাবিলদার, সিআই কিংবা সিপাহীরা পছন্দের বা সুবিধাজনক স্থানে বদলি হতে পারেন—এমন আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে খোঁদ আরএনবির সদস্যদের মধ্যে।

শুধু বদলির আশ্বাসে টাকা নেওয়াই নয়, টাকা নেওয়ার পর আরও বেশি অর্থের বিনিময়ে অন্য সদস্যকে ওই পদে বদলি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরএনবির এক ইন্সপেক্টর অভিযোগ করে বলেন, বদলির আশ্বাস দিয়ে চিফ কমান্ড্যান্ট মো. জহিরুল ইসলাম তাঁর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে উপরমহলের চাপে এবং বেশি অর্থ পাওয়ার আশায় অন্য এক সদস্যকে ওই স্থানে বদলি করা হয়। তিনি দাবি করেন, তাঁকে বদলি করা হয়নি এবং তাঁর দেওয়া ২ লাখ টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

দায়িত্বে বাহিনীর শীর্ষে থাকলেও থেমে নেই মাসোহারা বানিজ্যঃ
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল নিরাপত্তা বাহিনীর চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনের অস্ত্র শাখা (এবি), জেনারেল শাখা, গোয়েন্দা শাখা (আইবি), চট্টগ্রাম গুড পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) সহ বেশ কয়েকটি সার্কেলের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা, ডিউটি বণ্টনে অনিয়ম, টি/এ-ডি/এ ভুয়া বিল-ভাউচার, কথিত ‘ভগবান ডিউটি’, টিকিট কালোবাজারিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিভিন্ন সার্কেলে কথিত মাসোহারা বা অবৈধ অর্থের একটি আলাদা ফান্ড রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এসব অবৈধ অর্থের একটি অংশ আরএনবির শীর্ষ পর্যায়ে থাকা সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও), সহকারী কমান্ড্যান্ট (এসি), কমান্ড্যান্ট, কমান্ড্যান্ট সদর এবং চিফ কমান্ড্যান্টের কাছে বাধ্যতামূলক পৌঁছে দিতে হয়।

তাদের দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের অবৈধ আয় বা চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে অর্থ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এই হার ৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে, কোনো সার্কেলে পোস্টিং পাওয়া হাবিলদার বা ইন্সপেক্টর চাঁদা আদায় করে কর্তৃপক্ষকে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বদলি করে অন্যত্র নেওয়া হয়। বিপরীতে যিনি নিয়মিত মাসোহারা দিতে পারবেন বা অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারবেন, তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এমন একাধিক ঘটনা বাহিনীর অভ্যন্তরে আলোচনায় এসেছে। এ কারণে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

বদলি ঠেকাতে ও পদায়নে অর্থ ও স্বার্থের লেনদেনঃ
অভিযোগ রয়েছে, জহিরুল ইসলাম পূর্বাঞ্চলে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছরে ৮ শতাধিক আরএনবি সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বদলি ও পদায়নের অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থ ও অর্থের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পছন্দের কর্মস্থলে যাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন পাওয়া কিংবা বদলির আদেশ ঠেকানোর জন্য ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে। পদমর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব অনুযায়ী অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় বলেও জানান তারা।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সিপাহীর ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, পোস্টিং হাবিলদারের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ক্ষেত্রে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। সাব-ইন্সপেক্টরের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং চিফ ইন্সপেক্টরের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেন করা হয়।

বদলি ফাইল প্রক্রিয়াকরণে উজ্জ্বলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নঃ
জানা যায়, বদলি-সংক্রান্ত চূড়ান্ত ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও বাস্তবায়নে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) ইমাম হোসেন উজ্জ্বলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এমনকি পশ্চিমাঞ্চলে আরএনবির দায়িত্ব পালনের পূর্বে একটি অর্থনৈতিক অনিয়মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী সদস্যদের প্রায় ১৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও তথ্য সূত্র জানায়। ওই ঘটনায় সদস্যদের প্রতিনিধি হিসেবে সাদ্দাম হোসেন সক্রিয় ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন ও ইমাম হোসেন উজ্জ্বলের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড থাকার কথাও জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অডিওটির ফরেনসিক বিশ্লেষণ, কথোপকথনের সময় ও প্রেক্ষাপট যাচাই এবং অর্থের প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগঃ
চিফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামকে সুবিধা দেওয়া এবং তাঁর বদলি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঠেকাতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, জহিরুল ইসলামের ভাই আমিনুল ইসলাম সুজন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে।

২০১৭ সালের সিপাহী নিয়োগে জালিয়াতি ও দুদকের মামলাঃ

জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর একটি হলো ২০১৭ সালে ১৮৫ জন আরএনবি সিপাহী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ। এ ঘটনায় পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও মামলা পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি।

২০১৭ থেকে ২০২২: অভিযোগ, অনুসন্ধান ও মামলা

নথি ও অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে ১৮৫ জন সিপাহী নিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৫ মে পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা ও ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি রেলওয়ের নিজস্ব তদন্তেও অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার পর ২০২২ সালের ২১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয় দুদকের প্রধান কার্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে আরএনবির চিফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

নম্বর ম্যানিপুলেশন ও কোটা জালিয়াতির অভিযোগঃ

দুদকের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তাঁদের পাস করানো এবং যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় লিখিত পরীক্ষায় ২৫ নম্বরের বেশি পাওয়া যোগ্য ১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনকে ফেল দেখানো হয়। তাঁদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সম্মিলিত নম্বর ২০ দশমিক ২ থেকে ২৪ দশমিক ৪ পর্যন্ত ছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপরও তাঁদের বাদ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে একই কোটায় লিখিত পরীক্ষায় সরাসরি অকৃতকার্য ৯জন প্রার্থীর নম্বর কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে তাঁদের পাস দেখানো এবং চূড়ান্তভাবে চাকরির ব্যবস্থা করার অভিযোগ রয়েছে।

জেলা ও পোষ্য কোটাতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে মেধাতালিকা বাতিল করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের পরিবর্তে মানিকগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জের প্রার্থীর স্থলে টাঙ্গাইলের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে কোটা পূরণ করার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে ২০১৭ সালের ওই নিয়োগ জালিয়াতির মামলার পরও ২০২২ সালে পূর্বাঞ্চলে ৮০৬ জন সিপাহী নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কমিটিতে জহিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও প্রশাসনিক নথির আলোকে তদন্তের দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর মধ্যে।

মামলাটির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ১৮৫ জন সিপাহী নিয়োগ নিয়ে মামলাটির বিষয়ে অবগত রয়েছি তবে এটির বাদি আমি নই। আমার জানামতে মামলটি চলমান রয়েছে এবং অনুসন্ধান চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য

২০২৩ সালে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জহিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কাজী জিন্নাতুন নাহারের নামে সোয়া চার কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মিরপুরের সেনপাড়া মৌজায় জহিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী যৌথভাবে একটি সম্পত্তি ক্রয় করেন। ওই সম্পত্তির দলিলমূল্য ধরা হয়েছিল ৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে জহিরুল ইসলামের একক অংশের মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ঢাকার শহীদবাগ ও উত্তরায় ফ্ল্যাটসহ আরও বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য প্রাথমিক তালিকায় থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ কমান্ড্যান্ট মো. জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হলে দেখা যায়, প্রতিবেদকের নম্বরটি তিনি ব্লক করে রেখেছেন। এর আগে আরও কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে অফিস সহকারীর মাধ্যমে জহিরুল ইসলাম জানিয়ে দেন, তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না।

২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর রেলওয়ের ডিজি কার্যালয় থেকে সংশোধিত নির্দেশিকা ও জারি করা দপ্তরাদেশ অনুযায়ী বদলি-পদায়ন কতটুকু সম্ভব হচ্ছে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা-ব্যাবস্থাপক ও মহাপরিচালকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এদিকে বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ফাহিমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর ব্যাস্ততার অযুহাতে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

বিস্তারিত আসছে ২য় পর্ব……