চুলায় জ্বলেনি আগুন: পানিবন্দি মানুষের দ্বারে দ্বারে রান্না করা খাবার হাজির ‘নাহার বিল্ডার্স’

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মানুষের জীবন এখন বিপর্যস্ত। চারদিকে থৈ থৈ পানি। ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে বহু অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের ঘরের চুলায় আগুন জ্বলেনি। তীব্র খাদ্য সংকটে দিন কাটছে শিশু ও বৃদ্ধসহ শত শত পানিবন্দি মানুষের। ​এমন চরম সংকটের দিনে চরম মানবিক দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘নাহার বিল্ডার্স’।

​বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের এই কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছেন নাহার বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান ও দোহাজারী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিম উদ্দিন জনি। তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে সম্পূর্ণ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বিশাল আয়োজনে সুস্বাদু বিরিয়ানি রান্না করা হয়।  এরপর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পানিবন্দি পরিবারগুলোর দ্বারে দ্বারে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এই রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।

এবিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন জনি বলেন, “বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মনুষ্যত্ব। যখন শুনলাম পানি উঠে যাওয়ার কারণে এলাকার বহু মানুষের ঘরে গত কয়েকদিন ধরে রান্নাবান্না বন্ধ, তখন নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। এটি কোনো দান নয়, আমার এলাকার ভাই-বোনদের প্রতি আমার মানবিক দায়িত্ব।”

​হঠাৎ করে ঘরে তৈরি খাবার পেয়ে বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “চারিদিকে পানি থৈ থৈ করছে, বাজারে যাওয়ার উপায় নেই, ঘরে রান্নারও ব্যবস্থা নেই। এই কষ্টের দিনে জনি ভাই যেভাবে আমাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলব না।”

​দুর্যোগের এই মুহূর্তে সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নাহার বিল্ডার্সের এমন ত্বরিত পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সমাজের সর্বস্তরের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিম উদ্দিন জনির মতো এভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তবে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মহৎ ও মানবিক উদ্যোগ সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন