‘বাংলার জমিন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হওয়ার কারনে ফার্টিলিটি চমৎকার হওয়ার কারনে এখানে প্রোডাক্টিভিটি স্টুডেন্টদের মধ্যে অনেক বেশি। কিন্তু প্রোডাক্টিভিটি কাজে লাগানো হয় না। ৬২ পার্সেন্ট বুয়েট গ্রেজুয়েট বিদেশে চলে যায়, তাদের ধরে রাখার মতো কোন ধরনের ম্যাকানিজম বাংলাদেশ তৈরি করে না। বলা হয় বাংলাদেশে নাকি টাকা নাই, তলাবিহীন ঝুড়ি। বাংলাদেশ নাকি অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র, সম্পদ কম। এসব ভুলভাল বুঝিয়ে আমাদেরকে বোকার স্বর্গে বসবাস করিয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে যারা এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে শাসন করেছে। অথচ আমাদের এই কথা বলে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দিছে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে। এরা আগেও যে পাচার করে নাই তাতো না। প্রতি গর্ভমেন্ট চেইঞ্জ হইলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। কোটি কোটি টাকা পাচার করে। কেউ ফেরেস্তা না। আজকে যারা লেকচার ছাড়ছে দেশ গঠন করবো নতুন দেশ এইসেই এই লেকচারছোড়া মানুষগুলো যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। দুর্নীতির দায়ে তাদের জেলে যেতে হয়েছে। লজ্জাজনক, ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই দেশটা এমনভাবে গড়ে উঠতে পারে নাই যে দেশটা সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে আরোহন করতে পারে।’
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের কল্যাণের জন্য ছাত্র শিবির কাজ করে। ছাত্র শিবির মনে করে মানুষকে সম্পদ হিসেবে যদি তৈরি করতে পারে একটা জাতিকে বোকা বানানো সম্ভব না। ইচ্ছামতো কোনকিছু করা সম্ভব না। ছাত্র শিবির দীর্ঘ পরিশ্রমের পর ত্যাগ তীতিক্ষার ফলে এমন একটা জায়গায় এখন এসেছে কোন রক্ত চক্ষু যদি আমাদের দিকে তাকিয়ে আমাদের অধিকারকে আর হরন করতে চায় তাদের অবস্থা ফ্যাসিবাদের মতো করে দেবো আমরা। ছাত্ররা প্রতিবাদ করতে শিখে গেছে। বুক চেতিয়ে জীবন দিতে শিখে গেছে। চোখে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলতে শিখে গেছে আর তাদের সম্পদ লোপাট করা যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্র শিবির একটি আদর্শিক সংগঠন। যারা তাদের দেশের জনসম্পদকে কাজে লাগাতে চায়। যারা তাদের জনগোষ্ঠীকে তরুণ সমাজকে এই দেশ গঠনে ইসপাইরেশন করে দিতে চায়। যারা আদর্শ নৈতিকতার ভিত্তিতে এই সমাজ গঠনের জন্য ছাত্রদেরকে ইনভাইট করে। আমরা বিশ্বাস করি তরুণ প্রজন্ম একটা দেশের সম্পদ। তরুন প্রজন্ম যদি জেগে উঠে একটা দেশ উন্নতির স্বর্ন শিখরে আরোহন করতে বাধ্য। দীর্ঘদিন ধরে এই তরুন প্রজন্মকে সাপরেইস করে রাখা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। বিদেশে আমাদের জন্য অবারিত সুযোগ থাকার পরেও আমাদের দেশে সিন্ডিকেট তৈরি করে বিদেশে শ্রমিক পাঠানো হয় অদক্ষ শ্রমিক তাদের রেমিট্যান্সের উপরে আবার আমার দেশ ডিফেন্ড করে।’
জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাঈন উদ্দিন রায়হানের সঞ্চালনায় এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি শওকত আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাকিব হোসাইন।
প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. তানভীর হায়দার আরিফ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক আব্দুল মোহাইমিন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট সাইফুর রহমান, জোরারগঞ্জ থানা জামায়াতের আমির নুরুল হুদা হামিদী, মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবির, মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির নুরুল করিম, মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিকদার, মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের আমির শিহাব উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে ২০০ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ ৮ শত জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন অতিথিরা।