শিক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বই বদলে দিতে পারে সীতাকুণ্ড

শফিক চৌধুরী :: বর্তমানে আমরা একটি জ্বরাগ্রস্ত সমাজে বাস করছি! যেখানে পরমত সহিষ্ণুতা আর আদর্শের অনটন যেন নিত্য সহচর৷ আদর্শিক নেতৃত্বের অভাবে তরুণ সমাজও দিকভ্রান্ত। অনিয়মই যেন আজ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে আমাদের সম্ভাবনাময় অনেক অঞ্চল আজ পিছিয়ে পড়ছে। প্রায় সবকিছুই বড় শহরমুখি হওয়ায় উপজেলাগুলোতে আজ বেকারত্ব যেন এক নির্মম নিয়তি। সেইসাথে আইনশৃঙ্খলা ও কিশোর গ্যাং কালচারসহ নানা অরাজকতায় আমাদের নাগরিক জীবন আজ পযুর্দস্ত!

দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সীতাকুণ্ড। অন্যান্য উপজেলা থেকে এখানকার সমস্যাও আলাদা। আগামী ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি নানা কারনেই গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং নগরীর কিছু অংশ (আকবর শাহ-পাহাড়তলী আংশিক) নিয়ে গঠিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন। প্রার্থীরা নানা ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে মনে করছে বোদ্ধামহল।

সীতাকুণ্ড প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। পাশাপাশি ব্যবসা বানিজ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক বন, পাহাড়, সৈকতের পাশাপাশি এখানে আছে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড। সেইসাথে চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে হয় এই উপজেলার ওপর দিয়ে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনা এখানে অবস্থিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই রয়েছে ইকোপার্ক ও সৈকত। অন্যদিকে পরিবেশদূষণও এই অঞ্চলের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে উঠছে। অপরিকল্পিতভাবে জাহাজভাঙা ইয়ার্ড নির্মিত হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীকে উপজেলার এমন নানা সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে সীতাকুণ্ড সারা দেশের দৃষ্টান্ত হবে। পাশের উপজেলা মিরসরাইয়ে ইকোনমিক এক্সক্লুসিভ জোন হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এখানে। এখন থেকেই এর ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাজ শুরু করতে হবে। মোটকথা, সীতাকুণ্ডের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। দেশের অনেক পর্যটন স্পট নিয়ে নানা আলোচনা হয়, কিন্তু চন্দ্রনাথ নিয়ে তেমন কিছু হয় না। সীতাকুণ্ডে ইকোপার্ককেন্দ্রিক একটি টুরিজম বোর্ডের অধীনে হোটেল-মোটেল চালু করা গেলে এখানকার সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। উপজেলার মুরাদপুর সৈকতকে পর্যটন স্পট করা যায়। সব মিলিয়ে এখানে পর্যটনের বিকাশে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে এই আসনে যিনি জয়ী হবেন তিনি এসব বিষয় ভেবে দেখবেন নিশ্চয়ই।

তবে, এসবকিছু অর্জনের জন্য দরকার আধুনিক, মুক্তমনা, শিক্ষিত, সৎ ও আত্মসচেতন যোগ্য নেতৃত্ব। কারণ সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের গুণে কুসংস্কার ও সামাজিক অনাচারকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারে সমাজ। মনে রাখতে হবে, একটি অঞ্চল বা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কিংবা মৌলিক বদলের পেছনে রাজনৈতিক যোগ্য নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। নেতৃত্ব হতে হবে এমন, যা দলকে ছাপিয়ে দেশের স্বার্থ বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উক্ত (চট্টগ্রাম-৪) আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী চবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ, যিনি একজন সজ্জন ভালো মানুষ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এলামনাই এবং লায়নিজমের সুবাদে যাকে আমি এবং আমার মতো অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে অনেকটা চিনি এবং জানি। যিনি সত্যিকার অর্থেই সমাজকে বদলাতে চান, মানুষের সেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত তিনি একাধারে উদ্যেমী, সাহসী, প্রজ্ঞাবান ও যে কোন কাজ সততা ও নিষ্ঠার সাথে করতে পারেন বলেই বিশ্বাস করি৷ আমরা আশা করি, এমন শিক্ষিত, যোগ্য ও আলোকিত নেতৃত্ত্ব পেলে সীতাকুণ্ডতো বটেই আমাদের চট্টগ্রাম শহরও উজ্জ্বল হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সীতাকুণ্ডবাসির দৈনন্দিন নাগরিক জীবনে অনেকটাই স্বস্তি আসতে পারে, যদি ভোটাররা তাঁদের নিজ এলাকায় আসলাম চৌধুরীর মতো এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, শিক্ষিত, নম্র-ভদ্র, সঠিক ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে পারেন। এমন নেতৃত্ব পেলে, সেটি সমাজ ছাপিয়ে রাষ্ট্টকেও সুন্দর ও আলোকিত নাগরিক সমাজ উপহার দিতে পারবে বলেই অনেকের বিশ্বাস৷ কারন, যে কোন অঞ্চলের বৃহত্তর পরিসরে যোগ্য-আলোকিত নেতৃত্ব সে সমাজ ও অঞ্চলকে সামাজিক কর্মকান্ড ও সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এলাকা ছাপিয়ে দেশেরও মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।

আমরা আশাবাদী, সীতাকুণ্ড আসনের সম্মানিত ভোটারগন সংসদ সদস্য বাছাইয়ে যোগ্য নেতৃত্ব চিনে নিতে নিশ্চয়ই ভুল করবেন না৷ কারন, আমরা যদি আলোকিত ও যোগ্য নেতৃত্বকে বাছাই করতে না পারি, তাহলে সমাজ আলোকিত হবে কিভাবে? আর আমরা যদি যোগ্য নেতৃত্বকে মূল্যায়ন না করি, তবে সমাজ বদলানোর স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে! মানুষ ভোট দেন বিশ্বাস থেকে। মানুষের আস্থাই হলো শক্তি; আর সেই আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আলোকিত সুন্দর সমাজ ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে (চট্টগ্রাম-৪) সীতাকুণ্ড আসনের ভোটাররা যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করে নিবেন বলেই আমরা আশা করি। ©সফিক চৌধুরী। লেখক ও এলামনাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখক : সফিক চৌধুরী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, চবি।

আরও পড়ুন