দোহাজারী ষ্টেশন রোড যেন বর্জ্যের ভাগাড়: তীব্র দুর্গন্ধে জন ভোগান্তি চরমে

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘স্টেশন রোড টু নতুন রেলওয়ে স্টেশন সড়ক’। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন শত শত পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা রেলযাত্রী।

তবে গত এক মাস ধরে এই প্রধান সড়কের কোল ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে বর্জ্যের এক বিশাল ভাগাড়। পৌরসভার সঠিক তদারকি ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের অভাবে পুরো এলাকাটি এখন পরিণত হয়েছে মারাত্মক পরিবেশদূষণের হটস্পটে।

​দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা আবর্জনা পচে চারদিকে তীব্র ও উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে নাক-মুখ চেপে ধরে পথ অতিক্রম করাই এখন এ এলাকার নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। কেবল দুর্ভোগই নয়, খোলা বর্জ্যের কারণে এলাকাটি মশা ও মাছি বংশবৃদ্ধির আদর্শ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্যে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এখানে দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রাদুর্ভাব। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে জাঁকিয়ে বসেছে ডেঙ্গুসহ নানা ছোঁয়াচে ও পানিবাহিত রোগের আতঙ্ক।

​নতুন রেলওয়ে স্টেশনমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রথমবার আসা যাত্রীরা দোহাজারী পৌরসভার এমন করুণ দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ এক মাস ধরে যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নামছে।

​এলাকাবাসীর মতে, সমস্যাটি শুধু সাময়িকভাবে ময়লা পরিষ্কারের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। স্থায়ী কোনো ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় সবাই বাধ্য হয়ে সড়কেই বর্জ্য ফেলছে। স্থায়ী মুক্তির লক্ষ্যে জমা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও এলাকাটি জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি ইট বা আরসিসি দিয়ে একটি মজবুত স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

​একটি আধুনিক পৌরসভার কাছ থেকে এমন নোংরা পরিবেশ কখনোই কাম্য নয়। জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দোহাজারী পৌরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের আশু হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচরে আসার পর কনজারভেন্সি সুপার ভাইজারকে নির্দেশনা দিয়েছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এই বর্জ্য অপসারণ করা হবে।”