আনোয়ারায় এসএসসিতে সেরা ফলাফল কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসায়

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা  বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আনোয়ারা উপজেলায় ২৬ টি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৬৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ১ হাজার ৭৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়।

অপর দিকে ১১ টি মাদ্রাসা থেকে ৬০৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৩৪ জন উত্তীর্ণ হয় এবং ভোকেশনালে ৩ টি বিদ্যালয় থেকে ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৩০ জন উর্ত্তীণ হয়।

এসএসসিতে উপজেলায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১০ জন, দাখিলে ২৭ জন এবং ভোকেশনালে ২১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করে। আনোয়ারায় এবারের এসএসসিতে পাসের ৪৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, দাখিলে ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ৬৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেণে দেখা যায়, উপজেলার ২৬ টি বিদ্যালয়ের ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে কাফকো স্কুল এন্ড কলেজ। এ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষা ২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ২৬ জন পাস করে। তাদের মধ্যে ১৬ জন জিপিএ ৫ অর্জন করে এবং পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ যা উপজেলার ২৬ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। ৫৮ জন পাস করে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সিইউএফএল স্কুল এন্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ জন পাস করে এবং ৯ পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী স্কুলের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবিদ্যালয় থেকে ১৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ১০২ জন পাস করে। তাদের মধ্যে ৭ জন জিপিএ ৫ অর্জন করে। এ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

অপর দিকে উপজেলায় ১১ টি মাদ্রাসার মধ্যে বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রথম স্থান অধিকার করে। এ মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৯ জন পাস করে। তাদের মধ্যে ২০ জন জিপিএ ৫ ার্জন করে। এ মাদ্রাসার পাসে হার ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোহাম্মদীয় কুদ্দুছিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৪ জন পাস করে যাদের মধ্যে ২ জন জিপিএ ৫ ার্জন করে। এ মাদ্রসার পাসের হার ৮২ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং পশ্চিমচাল ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ৯১ জন পাস করে। তাদের মধ্যে ৪ জন জিপিএ ৫ অর্জন করে। এ মাদ্রাসার পাসের হার ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

আনোয়ারায় ৩ টি কারিগরির (ভোকেশনাল) স্কুল রয়েছে। সে গুলো হল আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঝি.বা.শি  উচ্চ বিদ্যালয় ও তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়।

এবারে এ তিন টি বিদ্যালয়ের মধ্যে আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৬ জন পাস করে প্রথম স্থান অর্জন করে। তাদের মধ্যে ১৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। এ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৮৬ শতাংশ। অপর দুইটি মধ্যে ঝি.বা.শি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবার উপজেলায় এসএসসিতে মোট অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৭৯৭ জন, দাখিলে ১৭৩ এবং ভোকেশনালে ৬৭ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র বসু জানান, সারা দেশের মতো এবার আনোয়ারা উপজেলায়ও ফলাফল তেমন ভাল হয়নি। আগামীতে ভাল ফলাফল ার্জনে চেষ্টা করা হবে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, ভাল ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। এবার সম্পন্ন নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্টিত হয়েছে। ফলাফল ভাল করতে শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নিয়ে বসব।