বন্যার ক্ষত মুছে শঙ্খ চরে নতুন স্বপ্নের বুনন: বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকেরা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকা। পানির তীব্র তোড়ে ভেসে যায় শঙ্খ চরের প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির স্বপ্নের ফসল, চিরসবুজ চরাঞ্চল রূপ নেয় এক ধূসর বিরানভূমিতে। তবে বন্যার সেই তাণ্ডব ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি পেছনে ফেলে হাত গুটিয়ে বসে নেই এখানকার পরিশ্রমী কৃষক-কৃষাণীরা। কাদা আর পলিমাটির সুবাস মেখে তারা আবারও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন মাঠে।

​বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই শঙ্খ চর এখন মুখরিত কৃষকের নতুন আশার গুঞ্জনে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুরু হয়েছে জমি প্রস্তুত ও নতুন করে বীজ রোপণের কাজ। ভোরের আলো ফুটতেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কৃষকেরা ছুটে চলছেন চরের ক্ষেতে।

​সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সরেজমিন দোহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কিল্লাপাড়া, বেগম বাজার, রায়জোয়ারা, লালুটিয়া ও পূর্ব দোহাজারী এলাকা ঘুরে দেখা যায় উৎসবমুখর দৃশ্য। মুলা, বেগুন, বরবটি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো এবং লালশাকসহ নানান পদের সবজির বীজ ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি ভুলে নতুন ফসলের সবুজ হাসি দেখার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।

​এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আজাদ হোসেন জানান, “কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শ ও সরকারি সহযোগিতায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। শঙ্খ চরে উৎপাদিত সবজি শিগগিরই আবার চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারের চাহিদা মেটাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

​তিনি আরও বলেন, “ধান ও সবজি ক্ষেতে কৃষকের নতুন করে বোনা এই সোনালী ও সবুজ স্বপ্ন প্রমাণ করে- প্রকৃতি যতই কঠোর হোক না কেন, মানুষের আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের শক্তি তার চেয়েও অনেক বেশি বড়।”