চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারি ও গবাদিপশু মালিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত উন্নতমানের গো-খাদ্য ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় চারণভূমি প্লাবিত হওয়া এবং সঞ্চিত খড়-ভুসি নষ্ট হয়ে খাদ্যসংকটে পড়া খামারিদের জন্য এই সহায়তা যেন এক টুকরো স্বস্তি হয়ে এসেছে।
উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বাস্তবায়নে বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের মোট ৮৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত খামারির হাতে বিনামূল্যে এই গো-খাদ্য তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আবদুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম শাওন ভুঞা।
বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমান বলেন, ”সাম্প্রতিক বন্যা উপজেলার কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বড় আঘাত হেনেছে। খামারিরা যেন গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে না পড়েন, সে জন্যই ত্রাণ অধিদপ্তর থেকে বিশেষ বরাদ্দ এনে গো-খাদ্য বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং কোনো খামারিকে অসহায় বোধ করতে হবে না।”
প্রাণিসম্পদ খাতের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় পশুর রোগবালাই প্রতিরোধে গো-খাদ্য বিতরণের পাশাপাশি বিনামূল্যে টিকা প্রদান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
সংকটকালীন এই মুহূর্তে সরকারি সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারিরা। বরকল ইউনিয়ন থেকে আসা এক খামারি স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “বন্যায় গোয়ালঘরে পানি উঠে সব খড়-ভুসি পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। চড়াদামে খাবার কিনে গরু বাঁচানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। সরকারের এই সাহায্য আমাদের অনেক বড় উপকার করল।”