লোহাগাড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব; রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অর্ধশতাধিক স্পট থেকে ইজারা ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার ৪টি বালু মহাল ইজারা দেওয়া হলেও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় অন্য কোন বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু উপজেলার আমিরাবাদ, পুঁটিবিলা, গৌড়স্থান, ফারাঙ্গা, পানত্রিশা, আধুনগর, জঙ্গলপদুয়া ও চুনতি এলাকার ডলু নদী, সরইখাল, হাঙ্গরখাল, টংকাবতী নদী, চরম্বার জামছড়ি খাল, বামির খাল, থমথমিয়াখালের বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক স্পট থেকে ইজারা ছাড়াই শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় প্রশাসন উপজেলার পুঁটিবিলা ইউনিয়নের গৌড়স্থান, চুনতির পানত্রিশা, ফারঙ্গা, সরই, হাসনাভিটা, পহরচান্দা, চরম্বা, আধুনগর, আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন অবৈধ বালু মহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করলেও থামানো যাচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়ের হাসিনাভিটা এলাকায় সরই খাল ও ধুইল্লা খাল, চুনতি ইউনিয়নের ফারাঙ্গা ও পানত্রিশা এলাকায় ডলু নদী, আমিরাবাদে টংকাবতী নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। হাসনাভিটার সরই খাল ব্রীজের আশপাশে ১০-১২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ব্রীজের দক্ষিণ-পূর্বে মোটা শাহাব উদ্দিন, উত্তর পাশে লম্বা শাহাব উদ্দিন, ইউসুফ ড্রাইভার ও রিয়াদ দীর্ঘদিন যাবত কোন ধরণের ইজারা ছাড়াই বালু তোলছে। অন্যদিকে, লোহাগাড়া-লামা সড়কে চুনতি এমচরহাট এলাকায় ডলু ব্রীজের গোড়া থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রীজের মাঝখানের স্তম্ভের নিচের মাটি সরে গিয়ে ৩০ ফুট পাইলিংয়ের ২০ ফুট দৃশ্যমান হয়ে গেছে। পুটিবিলা হাসনাভিটার পাশে সরই খালের ব্রীজের ২০ ফুট দুরত্বে শ্যালো মেশিন বসিয়েও দিনরাত তোলা হচ্ছে বালু। ফলে ব্রীজটি ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও থমথমিয়া খাল, চরম্বার জামছড়িখাল, সুখছড়ির খাল, টংকাবতীনদী থেকে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা বা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু তা না মেনে উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়ের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের হাসিনাভিটা এলাকায় ব্রীজের পাশ থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালি।

স্থানীয় ফরহাদুল ইসলাম ও বজলুর রহমান বলেন, জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। পুটিবিলা ইউনিয়নের হাসভিটা এলাকায় জনবসতি ও ব্রীজের খুব কাছ থেকে সরই খাল ও ধুইল্লা খাল থেকে কমপক্ষে ১০/১২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পুটিবিলা বাজার, মসজিদ, ডলু ব্রীজ ও হাসনাভিটা ব্রীজ হুমকির মুখে। যেকোনো সময় ব্রীজ ভেঙ্গে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

পুটিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, পুটিবিলি, ফারাঙ্গা, পানত্রিশা এলাকায় শতাধিক শ্যালোমেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য স্থানীয়দের সচেতনা বৃদ্ধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন