বোয়ালখালীতে শাশুড়ির ক্রয়কৃত সম্পদ রাক্ষার্থে পুত্রবধূর সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় শাশুড়ি মিনুয়ারা বেগমের ক্রয়কৃত সম্পদ রাক্ষার্থে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাসপিয়া জুয়েল নামের এক পুত্রবধূ।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বোয়ালখালী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শাশুড়ির পক্ষে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে শাশুড়ির ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপরে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণের অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী তাসপিয়া জুয়েল বোয়ারখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মুফতিপাড়ার মিনুয়ারা বেগমের পুত্রবধূ।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তাসপিয়া জুয়েল বলেন,আমি পেশায় একজন গৃহিনী। আমার শাশুড়ি মিনুয়ারা বেগম অক্ষর জ্ঞানহীন বিধায় আমি তার পক্ষে আপনাদের কাছে লিখিত বক্তব্য দিচ্ছি। আমার শ্বাশুড়ি ২০০৪ সালেসাড়ে ১৯ শতক একটি জায়গা খরিদ করেন। গত এক সপ্তাহ ধরে খরিদকৃত সেই জায়গার উপর স্থানীয়রা জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণ করে আসছে।

এ বিষয়ে আমার শশুড় মোহাম্মদ আবদুর রশিদ বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে জানালে ইউএনও বোয়ালখালী পৌরসভা কার্যালয়ে একটি লিখিত দরখাস্ত দিতে বলে। বোয়ালখালী পৌরসভা কার্যালয়ে দরখাস্ত দেওয়ার এর পৌর প্রশাসক কোন ব্যবস্থা না নেওয়াই আমার শশুড় আবদুর রশিদ পুনরায় বিষয়টি (ইউএনও)মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে জানালে ইউএনও সড়কটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন।

এ সময় ইউএনও উভয় পক্ষকে সার্ভেয়ার নিয়োগ করে পরিমাপ করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠাতে বলে। গত ২০২৫ সালের (২৮ জুন) পরিমাপ করে আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। তবে অপর পক্ষের প্রতিবেদন না পাঠানোর কারণে আমারশ্বশুড় থেকে বারবার সময় নিতে থাকেন ইউএনও)মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। গত( ১০ অক্টোবর) শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর বাসভবনে আমার শশুর আবারো দেখা করেন। তখন তিনি বলেন অপর পক্ষের সার্ভেয়ার প্রতিবেদন আসলে আপনাকে ডাকা হবে। গত (১৬ অক্টোবর) বৃহষ্পতিবার আবারো দেখা করলে তিনি প্রতিবেদন আসনেনি বলে জানান। গত (১৮অক্টোবর) শনিবার আমার শশুড় যশোরে থাকাকালিন সময়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক সড়কেকাজ শুরু করেন। আমার শ্বাশুড়ি আমার শ্বশুড়কে বিষয়টি জানানোর পর তিনি এসে ইউএনওর সাথে দেখা করেন এবং সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমাও উপস্থিত ছিলেন। আমার শ্বশুড় জায়গার কাগজপত্র দেখালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা কাজগপত্রগুলো ভূয়া বলে আখ্যায়িত করেন। জায়গার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা কানিজ ফাতেমা আমার শ্বশুড়কে বিভিন্ন ভাষায় অপমান করেন এবং তাঁকে লাথি মেরে ও তার দাঁড়ি ধরে তাকে বের করে দিতে বলেন আর আমার শ্বাশুড়ির জমিতে নির্মাণকৃত দালান ভেঙে ফেলবেন বলেও হুমকি দেন তিনি। এ বিষয়ে গত (১৮ জুন ) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন আমার শ্বশুড়। কিন্তু তাতেও কোন বিচার পাইনি আমরা।বর্তমানে সড়কে কাজ চলমান বিধায় ইউএনওর কাছে আমার শ্বশুড় একজন প্রতিনিধি পাঠায়। প্রতিনিধিকে বলা হয়েছে পৌরসভা থেকে কাজ করার জন্য বলা হয়নি।

এসময় সহকারি কমিশনার ভূমি কানিজ ফাতেমাও উপস্থিতছিলেন এবং তিনিও ইউএনওর কথায় সম্মতি দিয়েছেন। আমার স্বামী বিদেশ থেকে এসে পারিবারিকভাবে আলোচনা সাপেক্ষে একটি সমাধানে যাওয়ার জন্য আমার শশুর প্রশাসনের কাছে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কাজ বন্ধ রেখে সময়ের প্রার্থনা করেন। তবে সময় দিলেও বর্তমানে জায়গার উপর দিনরাত কাজ চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তাসপিয়া জুয়েল ন্যায়বিচার দাবি করে বলেন, আমি আইনের সহায়তা চাই। এ সময় তার পাশে ছিলেন শাশুড়ি মিনুয়ারা বেগমের এবং শশুড় মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।

আরও পড়ুন