আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে প্রতিটি আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কোন আসনে ধানের শীষ কার ভাগ্যে জুটে এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় জনগণ এবং কেন্দ্রে সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে নানা কর্মসূচী নিয়ে সরব রয়েছেন। সবাই নিজ নিজ অনুসারীদেরকে আশ^স্থ করার চেষ্টা করছেন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকার বিষয়টি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের শেষ উপজেলা তথা নির্বাচনী এলাকা বাঁশখালীতেও একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসন ঘিরে বিএনপির তৎপরতা এখন বেশ দৃশ্যমান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৬জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন চার প্রার্থী। তারা হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, প্রয়াত এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ছেলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, ছোট ছেলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান।
এই চারজন আলোচনায় থাকলেও আরও ৩জন প্রার্থী ধানের শীষ প্রত্যাশা করছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা পিপি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আশরাফ হোসেন রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট ইফতেখার মহসিন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ৯০-এর গণআন্দোলন, ১/১১-এর দুঃসময়সহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ক্লিন ইমেজ, সততা ও বিশ্বস্ততার কারণে শিক্ষিত সমাজে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সাবেক সাংসদ জাফরুল ইসলামের ছেলে হওয়ায় পারিবারিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের জোরে মাঠে আছেন দুই ছেলে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর এবং মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। ক্লিন ইমেজের জনপ্রিয় প্রয়াত এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর জনপ্রিয়তা এবং তরুণ নেতৃত্ব ও পিতার মতো পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে এ দুইজনের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। আলমগীর বাবার ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশুনার পাশাপাশি রাজনীতিতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন, চিটাগাং ক্লাব লিমিটেডসহ নানা ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে নিজের যোগ্যতার প্রমান রেখেছে। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বিএনপির তৃণমূল সংগঠনসহ সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী ব্যাপক ভূমিকা রাখায় তাকে নিয়ে দলীয় হাইকমান্ড আলাদা চিন্তাভাবনা করছেন বলেও খবর চাউর হয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বাঁশখালীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতাকর্মী শহীদ ও আহত এবং জেল জুলুমের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পাপ্পা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। এটা তার জন্য বাড়তি এডভান্টেজ বয়ে আনবে বলে অনুসারীদের বিশ^াস। এছাড়া বাঁশখালীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও হাসপাতালসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রেখে তিনি জনগণের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ সময় মানুষের সঙ্গে কাজ করে মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা গড়ে তুলেছেন লিয়াকত আলী। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, জেল খাটা ও সাংগঠনিক ত্যাগের জন্য তিনিও সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে নিজেকে তীলে তীলে গড়ে তোলা এই সাহসী চেয়ারম্যান নানা সময়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়ে সবসময় টপ রেটেড থাকায়, বাঁশখালীর বাইরে চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলার মানুষ তাকে একনামে চিনে।
তবে জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপে আভাষ মিলেছে, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন। এলাকায় জনপ্রিয়তা, আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা সবমিলিয়ে কঠিন এক মানদন্ড পার হয়েই জুটবে এবারের মনোনয়ন এমনটাই দাবি দল সংশ্লিষ্টদের।