রাঙ্গুনিয়ায় বালুমহালের ইজারা বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে এলাকাবাসীর অবস্থান কর্মসূচি

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং বালুমহালের ইজারা বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সচেতন ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জানানো হয়, কোদালা, সরফভাটা, বেতাগী এবং শিলক ইউনিয়নসহ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে ভয়াবহ ভাঙন, সড়ক ধস ও অবকাঠামোগত সংকট দেখা দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতিমধ্যে শিলক বিচক্র হাট এলাকার হাজী সৈয়দ আলী সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ নদীতে ধসে গেছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় বাজার, শত শত ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ লাইন। কাপ্তাই প্রকল্প থেকে পানি ছাড়লে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেন স্থানীয়রা। এ কারণে এলাকাবাসী ইতোমধ্যে লাল পতাকা টাঙিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করেছে।

কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে একাধিক মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মাধ্যমে স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। ফেব্রুয়ারি,থেকে সেপ্টেম্বর মাসে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

এ অবস্থায় কর্ণফুলী নদী ও রাঙ্গুনিয়াকে রক্ষায় আন্দোলনকারীরা উপজেলা প্রশাসনের নিকট ৪ দফা দাবি পেশ করেন— ১. রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী নদীর সব বালু ইজারা ও বালু উত্তোলন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ২. আগামী তিন দিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নদী রক্ষা কমিটি সংস্কার করতে হবে। ৩. নিয়মিত নদীপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। ৪. অবিলম্বে কর্ণফুলী নদীর বেতাগী পয়েন্টে নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।

বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “কর্ণফুলী বাঁচান, রাঙ্গুনিয়া বাঁচান” শ্লোগান দেন।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ইউএনও বরাবর স্মারক লিপি প্রদানের পর দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেন জানান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হাসান।