চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার উপজেলার জামছড়ি বালু মহাল থেকে শর্ত ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন করছে ইজারাদার।
স্থানীয় এক ব্যক্তির রিট দায়েরের প্রেক্ষিতে ওই বালু মহাল ইজারা চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করেছে মহামান্য হাইকোর্ট।
চলতি বছরের ৩১ আগস্ট সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা এক রিট শুনানী শেষে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেন দেন।
সোমবার(১৫ সেপ্টম্বর) রিট দায়েরকারীর পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোঃ জহিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল উপজেলার চরম্বার জামছড়ি খাল থেকে বালু তোলার ইজারা দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। কিন্তু ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে জামছড়ি খালসহ পার্শ্ববর্তী আমিরাবাদের পূর্ব হাজারবিঘা থেকেও বালু উত্তোলন শুরু করে। ফলে এলাকার মসজিদ, রাস্তাঘাট ও খালপাড়ের বসতি ভাঙ্গনের মুখে পড়ে। পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকায় চলতি বছরে ৩১ আগস্ট অবৈধ বালু উত্তোলনের ইজারা বাতিল করতে স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন। রিটের শুনানী শেষে জামছড়ি বালু মহাল ইজারা চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করেন মাননীয় বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। রিট দায়েরকারীর পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন এ্যাডভোকেট মোঃ জহিরুল ইসলাম। বাদী চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল বালি উত্তোলন বন্ধ করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরেও আবেদন করেন। ওই আবেদন মাননীয় হাইকোর্ট আগামী এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট দায়েরকারী আজিজুর রহমান জানান, জামছড়ি বালু মহাল থেকে শর্ত ভঙ্গ করে তপশীলের বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে এলাকার মসজিদ, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ও খালপাড়ের বসতি হুমকির মুখে পড়েছে। তাই জনস্বার্থে তিনি চলতি বছরে ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরেও আবেদন করেন। আশা করি আমরা সুবিচার পাব।
আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে জামছড়ি বালু মহাল তপশীলের বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। মাননীয় আদালত শুনানী শেষে জামছড়ি বালু মহালের ইজারা চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করেছেন। রিটকারী চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল বালি উত্তোলন বন্ধ করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরেও আবেদন করেন। ওই আবেদন মাননীয় হাইকোর্ট নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সাদিকুর রহমান খান জানান, এ বিষয়ে কোন তথ্য তিনি জানেন না। খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।