আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের আইরমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিদিন নিয়মিত বসে গরুর হাট। গরু-মহিষের পায়ে পিষ্ট হয়ে নষ্ট হচ্ছে মাঠ। খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে নষ্ট হচ্ছে পুরো মাঠের পরিবেশ। এতে করে কোমলমতি শিশু ও স্থানীয় তরুণ প্রজন্মরা খেলা-ধূলা ও মানসিক বিকাশে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা সরকারের পাঁচ দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বটতলী রুস্তম হাট পশুর বাজারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাজারের পশ্চিমে তালুকদার ক্লাবের সামনে ও দক্ষিণে আইরমঙ্গল সড়কের পাশে গরুর বাজার বসার অনুমতি প্রদান করেন।
জানা যায়, বিগত ৫ বছর ধরে এবাজার সড়কের পাশে বসলেও এবছর ঈদুল আজহায় স্কুল বন্ধ হলে ইজারাদার আইরমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খুঁটি গেড়ে গরুর হাট বসাতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা আপত্তি জানালেও ইজারাদার তা শুনতে নারাজ। পরে প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম আজাদ বলেন, স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রম পাশের একটি ভবনে অস্থায়ী ভাবে চলছে। ঈদুল আজহায় স্কুল দীর্ঘ বন্ধের সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী স্কুল মাঠেই খুঁটি গেড়ে গরুর হাট বসাচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার)ও বসেছে। আমি ইউএনও মহোদয়কে লিখিত অভিযোগও দিয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক বলেন, ওই মাঠে ছেলেরা খেলাধূলা করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হয় কিন্তু কিছুদিন হঠাৎ করে কিছুদিন ধরে দেখছি সেখানে গরুর বাজার বসছে। বিষয়টা খুব খারাপ।
তবে ইজারাদার ফেরদৌসুর রহমান জানান, আমি উপজেলা প্রশাসন থেকে বাজার ইজারা নিয়েছি, উপজেলা প্রশাসন আমাকে এই জায়গাতেই গরুর বাজার বসাতে বলেছে। এখানে কোন শ্রেণি কার্যক্রম হয়না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, ওই জায়গাটা কিছুদিন আগেও বেদখল ছিল। আমি উদ্ধার করার পর গরুর হাট বসছে। শুনেছি ওখানে সপ্তাহে দুইদিন বাজার বসে ও অন্যান্য সময় গরু গাড়িতে উঠানামা করে, যদি বিদ্যালয়ের মাঠ হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।