বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী লুৎফা বেগমকে জড়িয়ে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী লুৎফা বেগম জানান, কিছু গণমাধ্যমে তিনি দীর্ঘ বছর ধরে একই পদে বহাল আছেন এবং বিলাসবহুল ‘ল্যান্ডক্রুজার’ গাড়িতে চড়ে অফিসে যাতায়াত করেন বলে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ।
তিনি বলেন, কয়েকটি নিউজে তাকে ‘সিপিও (চিফ পার্সোনাল অফিসার)’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার একই নিউজের কোথাও তাকে কর্মকর্তা, আবার কোথাও কর্মচারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই এভাবে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিবেদনে একাধিক ভুল ও অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। একই প্রতিবেদনে তার পদবি ও পরিচয় নিয়ে এমন পরস্পরবিরোধী তথ্য উল্লেখ করাই প্রমাণ করে, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এসব ভুল তথ্যই এর স্পষ্ট উদাহরণ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “রেলওয়েতে চাকরির পর থেকে কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে আমি বর্তমান পদে উন্নীত হয়েছি। তাই একই পদে বহু বছর আটকে থাকার অভিযোগটি অসত্য।”
বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, সরকারিভাবে তাঁর জন্য কোনো গাড়ি বরাদ্দ নেই এবং এ ধরনের গাড়ি কেনা বা ব্যবহার করার সাধ্যও তাঁর নেই। সংবাদে প্রকাশিত ছবির ব্যাপারে তিনি অভিযোগ করেন, “নিউজের ফটোকার্ডে যে ল্যান্ডক্রুজার গাড়ির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি এডিট করা ও সম্পূর্ণ বানোয়াট। সংবাদের ছবিতে প্রদর্শিত গাড়ির নম্বরটি (ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৩৫৪৪) মূলত আমার স্বামীর অফিসিয়াল পিকআপ ভ্যানের। একটি কুচক্রী মহল গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে পিকআপের নম্বর ঠিক রেখে নতুন ল্যান্ডক্রুজার গাড়ির ছবি বসিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে।”
অফিস যাতায়াতের বিষয়ে তিনি জানান, তাঁর স্বামী একজন ১ম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা ও ফিল্ড অফিসার। তারা দুজনই সরকারি নীতিমালার ভেতরে থেকে সরকারি বরাদ্দকৃত বাসায় একসাথে বসবাস করেন। অফিস ও রোড পরিদর্শনকালে পেশাগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে তাঁর স্বামী মাঝে মাঝে তাঁকে কর্মস্থলে পৌঁছে দেন বা নিয়ে যান, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং আইনসম্মত।
সংবাদে উল্লেখিত বিপুল সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে লুৎফা বেগম বলেন, “রেলওয়েতে যোগদানের পর থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা বা ঘুষ নেওয়া তো দূরের কথা, কারও কাছ থেকে এক কাপ চা খেয়েছি—এমন প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। প্রয়োজনে যেকোনো সহকর্মী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কথা বলে সত্যতা যাচাই করার উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর দুই মেয়ে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত এবং পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাঁরা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সম্মানিত জীবনযাপন করেন।
রেলওয়ের বিভাগীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রথম স্থান অর্জন করে সুনামের সাথে চাকরি করে আসছেন উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন, “কোনো রকম অনুসন্ধান না করে প্রচারিত এডিট করা ছবি ও ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের ফলে কর্মস্থল, সমাজ ও পরিবারে আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।”
তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সাথে অহেতুক সম্মানহানি ও অপপ্রচার বন্ধ না হলে নিজের অধিকার রক্ষায় দেশের প্রচলিত আইনের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।