পরিবেশ রক্ষায় দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ জরুরী: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও অধিক পানি শোষণকারী ইউক্যালিপটাস, আকাশমণিসহ কিছু প্রজাতির বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী রবিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে “০৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ” এই চিন্তা আমাদের সব কাজের মধ্যে থাকতে হবে। আমরা যদি দেশকে প্রাধান্য দিই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করি, তাহলে পরিবেশ ধ্বংসের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রতিটি গাছের হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কোন এলাকায় কত গাছ লাগানো হচ্ছে, কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে এবং সেগুলো কোথায় অবস্থান করছে এসব তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপকূল, পাহাড়, সমতল, কৃষিজমি ও নগরাঞ্চলের জন্য উপযোগী ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।
কার্বন ক্রেডিট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই কার্বন ক্রেডিট পাওয়া যায় না। এজন্য নির্দিষ্ট এলাকার প্রাথমিক তথ্য, ম্যাপিং, সার্ভে, অ্যাসেসমেন্ট ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে একটি কার্বন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজ করছে। আগামী বছর থেকে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিটের সুবিধা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্পায়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষাও জরুরি। শিল্প ও পরিবেশের মধ্যে একটি উইন-উইন পরিস্থিতি তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইটিপি পরিচালনা এবং নদী-খাল দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কর্ণফুলী ও হালদা নদীর দূষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য যাতে নদীতে না যায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ইটভাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্ছেদসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ইটভাটায় মাটির ব্যবহার কমাতে খাল খনন থেকে পাওয়া উপযোগী মাটি ব্যবহারের একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও বনভূমি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে আরে সক্রিয় হতে হবে। জনগণের মধ্যেও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-০৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আরও পড়ুন