দেশের ও দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে ৫৩ মামলার আসামি হয়েছেন, ৯ বার কারাবরণ করেছেন, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদেও রয়েছেন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার জন্য ডেলিগেট কার্ড পাননি সোনা মানিক। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আলী মর্তুজাও দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ১২৫টি ‘মিথ্যা’ মামলা রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্যাতন ও ত্যাগের পরও ৭০০ ডেলিগেটের তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, কার্ড না পাওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা মতবিনিময় সভা বয়কট করেছেন বলে জানা গেছে।
ডেলিগেট কার্ড বিতরণে ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকার কতটা মূল্যায়ন হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কোতোয়ালি থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সোনা মানিক। সোনা মানিকের সরাসরি দাবি, ৭০০ ডেলিগেট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ক্রাইটেরিয়া ছিল। অনেক সাধারণ পদ-পদবি ছাড়া কর্মীকেও কার্ড পেতে দেখা গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৫৩ মামলার আসামি হয়ে ৯ বার কারাবরণ করা একজন তৃণমূল নেতা যদি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না পান, তাহলে কারা কী বিবেচনায় ডেলিগেট কার্ড পেলেন, সেটি প্রকাশ্যে আসা দরকার।
কোতোয়ালি থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোনা মানিক আরও বলেন, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও তিনি ডেলিগেট কার্ড পাননি। দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সভায় তৃণমূলের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। ডেলিগেট কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তার দাবি, যে ৭০০ জন ডেলিগেট কার্ড পেয়েছেন, তাদের তালিকা প্রকাশ করা হোক। কারা কার্ড পেয়েছেন এবং কী যোগ্যতায় পেয়েছেন, তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জানার অধিকার রয়েছে।
একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আলী মর্তুজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলছি, আমি মর্তুজা, যে কিনা চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলাম। যার নামে ১২৫টা মিথ্যা মামলা, আজ আমার জায়গা হলো না এই ৭০০ জনের মধ্যে। এই দায়-দায়িত্ব কে নেবে?’ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলী মর্তুজা।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আহবায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম আহ্বায়করা এবং অঙ্গসংগঠনের যে সব নেতাকর্মীরা রয়েছেন, ধিক্কার জানাই আপনাদের। যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, এটার দায়-দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এই দল ক্ষমতায় এসেছে আমাদের মতো নেতাকর্মীদের নির্যাতনের সিঁড়ি বেয়ে, আমাদের ত্যাগের কারণে এই দল ক্ষমতায়। আর আজ আমাদের মতো ছেলেদের মূল্যায়ন করতে আপনাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
আলী মর্তুজা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এই ৭০০ জন কারা?’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমি আপনাদের বলে যেতে চাই, স্বজনপ্রীতি করে এই দলকে ধ্বংস করিয়েন না।’
এছাড়াও জানা গেছে, কার্ড না পাওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভা বয়কট করেছেন।
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভার আগেই ডেলিগেট কার্ড বিতরণ নিয়ে এমন ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কার্ড বিতরণে অনিয়ম, পছন্দের লোকদের প্রাধান্য এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ডেলিগেট কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং দলীয় ফোরামে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়নি। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়া অনেক নেতাকর্মী সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বেশ কয়েকজনকে কার্ড নিয়ে সভায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। আওয়ামী দোসরদের কার্ড পেতে দেখে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। স্যোশাল মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত অনেক ছবি নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে চট্টগ্রামজুড়ে।
তবে ডেলিগেট কার্ড বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির একাধিক নেতার মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।