বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসের উদ্যোগে নগরীর আগ্রাবাদস্থ বিএসটিআই এর বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো “নীতি নির্ধারণ পক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি”।
বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপপরিচালক ও অফিস প্রধান মোঃ মোমেন সাজ্জাদ।
তিনি তার বক্তব্যে মেট্রোলজি দিবসের তাৎপর্য ও বিএসটিআই’র কার্যক্রম তুলে ধরেন।
বিএসটিআই ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন- ২০১৮’ অনুযায়ী মেট্রিক পদ্ধতি বাস্তবায়ন, ওজন ও পরিমাপ যন্ত্রপাতির ভেরিফিকেশন/ক্যালিব্রেশন এবং মোড়কজাত পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছে। শিল্পায়ন ও রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য বিএসটিআই চট্টগ্রাম অফিস সম্প্রসারণ, আধুনিকীকরণ ও নতুন ল্যাব স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষণ ও ক্যালিব্রেশন সেবা নিশ্চিত করছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনলাইনভিত্তিক QR Code, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে বিএসটিআই দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সচেষ্ট।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ওজন ও পরিমাপ নিয়ে সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ সমস্যা আরও প্রকট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেট্রিক পদ্ধতি ব্যতীত ভিন্ন ভিন্ন এককে ওজন পরিমাপ করায় পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে শুধু বিভ্রান্তিরই সৃষ্টি হয় না বরং প্রতারণারও সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশে একজন সৎ ব্যবসায়ীকেই বরং সমস্যায় পড়তে হয়, কারণ অসৎ পথে যারা চলে তারা নিয়ম ভাঙার সুযোগ সুবিধা নিয়ে ফেলে। তাই ওজন ও পরিমাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে — শুধু ব্যবসায়ী বা উৎপাদক নয়, ভোক্তারাও এর বাইরে নন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির সক্রিয়তা ও কার্যক্রমের ফলে দেশে ওজন ও পরিমাপ সংক্রান্ত অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব হয়েছে। তবে শুধু বিএসটিআই-এর প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, আমাদের প্রত্যেকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল মনোভাবও জরুরি। তিনি সবাইকে নিজের জায়গা থেকে অন্যকে ওজনে কম না দেওয়ার এবং অন্যের কাছ থেকে পণ্য সঠিক পরিমাণে বুঝে নেওয়ার আহবান জানান। এই মানসিকতা যদি সবাই গ্রহণ করে, তাহলে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সবশেষে যারা এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন এবং দেশব্যাপী ন্যায্য ব্যবসার পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, তাদেরকে তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি এস এম নাজের হোসেন।
তিনি ভোক্তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমানের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও ভোক্তাদের ঠকানোর যে প্রতিযোগিতা চলছে তা রুখে দিতে বিএসটিআইসহ সরকারের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও জেলা প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
এছাড়াও তিনি বিএসটিআইকে ভ্রাম্যমাণ ক্যালিব্রেশন ভ্যান ব্যবহার করে বাজারে ওজন ও পরিমাপ যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
সভায় বনফুল এন্ড কোং এর জিএম শাহ কামাল মোস্তফা, বিএসআরএম এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক জামশেদ ইসলাম চৌধুরী, আবুল খায়ের গ্রুপের ম্যানেজার জহির উদ্দিন মোঃ ইমরুল কায়েস, ট্রান্সকম বেভারেজ গ্রুপের কিউসি ম্যানেজার মোঃ মহিউদ্দিন, আলাওল মধুর সৈয়দ মোঃ মাইনুল আলাউল, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সাইট কোয়ালিটি প্রধান মোঃ শাকিল, খুলশী মার্টের মোস্তাফিজুর রহমান, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর চট্টগ্রাম এর সহকারী পরিচালক রানা দেব নাথ, যুব ক্যাবের সভাপতি নোমান,চট্টগ্রাম ড্রিংকিং ওয়াটার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি ফয়সাল আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা চট্টগ্রামে নবনির্মিত ভবনে পানির পরীক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপনের ফলে উদ্যোক্তাগণের সময় ও অর্থ উভয়েরই সাশ্রয় হবে জানিয়ে বিএসটিআইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
পরিশেষে উপপরিচালক (রসায়ন) ইব্রাহিম খলিল তার ধন্যবাদ বক্তব্যে মুক্ত আলোচনায় উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রসঙ্গের যুক্তি খণ্ডন এবং সভাপতির অনুমতিক্রমে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।