প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল লোপাট, অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের পদোন্নতি/উচ্চতর স্কেল আটকে রেখে হয়রানি এবং অসদাচরণের বিস্তর অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।

​বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় অভিভাবকদের পক্ষে দাখিলকৃত এই অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ২৫টি বিষয় তুলে ধরা হয়।

​অভিযোগপত্রে উল্লিখিত প্রধান অনিয়মসমূহ:
​সরকারি মালামাল ও যন্ত্রপাতি লোপাট: ভোকেশনাল শাখার ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিংয়ের জন্য সরকারি অনুদানে পাওয়া ১৫–১৮টি উন্নতমানের সেলাই মেশিন চুরির নাটক সাজিয়ে আত্মসাৎ এবং ভোকেশনাল ও বিজ্ঞানাগারের দামি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং ফুড প্রসেসিং ল্যাবের আসবাবপত্র নিখোঁজ করা।

​অর্থ আত্মসাৎ ও তহবিল তছরুপ: বিদ্যালয়ের এফডিআর ভেঙে ও বিগত বছরের অডিট রিপোর্টে সমন্বয় দেখিয়ে বালু ভরাটের নামে প্রায় ৬–৭ লাখ টাকা তছরুপ, পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত অনুদান ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির স্কুল ফান্ডের টাকা জেনারেল ফান্ডে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ।

​শিক্ষক হয়রানি ও উচ্চতর স্কেল আটকে রাখা: সহকারী শিক্ষকদের প্রাপ্য উচ্চতর স্কেল, বিএড স্কেল ও এমপিও সংক্রান্ত ফাইলে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করা। অর্থ না দেওয়ায় এবং প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় দীর্ঘদিন ফাইল আটকে থাকায় শিক্ষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন; এমনকি উচ্চতর স্কেল না পেয়ে দুই শিক্ষক মারা যান এবং একাধিক শিক্ষকের ফাইল মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পরও প্রভাব খাটিয়ে বাতিল করানোর অভিযোগ রয়েছে।

​অনৈতিক গাইড বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র কেনা: নির্দিষ্ট গাইড কোম্পানির থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের গাইড কিনতে বাধ্য করা এবং শিক্ষকদের মূল্যায়ন ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র কিনে পরীক্ষা নেওয়া।

​অসদাচরণ ও হুমকি: সহকর্মী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর আচরণ, শোকজ ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানো এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ম্যানেজিং কমিটির বিধিবহির্ভূত ভুয়া রেজুলেশন তৈরি।

​অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় একাডেমিক সুপারভাইজারের সহায়তায় অভিযোগ ও পূর্বের তদন্তগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

​বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।