সরকারি ছুটির দিনেও যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যান চিকিৎসকেরা, সেখানে তাঁদের শারীরিক ক্লান্তি আর রোগীদের আকুলতার এক মানবিক ছবি ফুটে উঠল চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে।
দুর্গাপূজার ছুটির দিন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)। সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও দোহাজারী হাসপাতালে ছিল রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে একটানা অসংখ্য রোগী দেখে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ডা. সাহিমুল আবরার। একপর্যায়ে ক্লান্তি সইতে না পেরে জরুরি বিভাগের টেবিলেই সাময়িকভাবে মাথা রেখে একটু ঝিমুচ্ছিলেন তিনি।
ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের অসুস্থ নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন এক বয়োবৃদ্ধা। ঝিমুতে থাকা চিকিৎসককে দেখে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় আকুল কণ্ঠে তিনি বলে ওঠেন–
“ওবা ডাক্তর, ঘুম কা যর? আঁর নাতির আধা ঘণ্টা আগে জ্বর আইসসে, হনে সাইবু??”
(অর্থ: হে ডাক্তার, ঘুমাচ্ছ কেন? আমার নাতির আধা ঘণ্টা আগে জ্বর এসেছে, কে দেখবে?)
রোগীর স্বজনের এমন তাড়া খেয়ে চটে না গিয়ে কিংবা বিরক্ত না হয়ে চিকিৎসক ডা. সাহিমুল আবরার অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও হাস্যরসে ভরা চাটগাঁইয়া ভাষায় উত্তর দেন–
“নয় ওবা চাচী… আজিয়া বন্ধর দিনত ক’শত রুগী সাইয়্যি মনে মনে গুনি সাইদ্যে এক্কানা! তয় নাতির জ্বর ওইয়ে আধা ঘণ্টা অই গিয়ে, আরেক্কানা আগে কা ন আইলা!”
(অর্থ: না গো চাচী… আজকে ছুটির দিনে কত শত রোগী দেখেছি মনে মনে একটু গুনে দেখছিলাম! তবে নাতির জ্বর হয়েছে আধা ঘণ্টা হয়ে গেল, আরেকটু আগে কেন এলে না!)
ছুটির দিনেও চিকিৎসকদের ওপর সেবার অতিরিক্ত চাপ এবং একই সাথে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার এই হৃদ্যতাপূর্ণ ও হাস্যরসাত্মক কথোপকথনের বিষয়টি ডা. সাহিমুল আবরার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। পোস্টটি করার পর পরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মন কাড়ে। চিকিৎসকদের বিরামহীন পরিশ্রমের মাঝে ক্লান্তি ও সেবার এমন মানবিক ও অমায়িক রসায়ন চিকিৎসাসেবার এক ভিন্ন ও উজ্জ্বল মাত্রা তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।