দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, কৃষি ও প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু দোহাজারীকে কেন্দ্র করে নিকার (NICAR) কর্তৃক নীতিগতভাবে অনুমোদিত ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের জনগণ। এ লক্ষ্যে দোহাজারীর ছাত্র, যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণের পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন নিরব, মাওলানা আনাস মুহাম্মদ, ইমন এনাম, হোসাইন মোহাম্মদ আকিব, মো. সাইমন হাসান জিকু প্রমূখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সাঙ্গু নদীর তীরে অবস্থিত দোহাজারী পৌরসভা কেবল একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদই নয়, বরং মোগল আমল, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে এর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। বর্তমানে চন্দনাইশ উপজেলার অধীন ২য় (খ) শ্রেণির এই পৌরসভাটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এলাকা।
এখানে শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আধুনিক সরকারি হাসপাতাল, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও হাইওয়ে পুলিশ থানা, বিএডিসি, আভ্যন্তরণীন নৌচলাচলের ডেকা চেইন ষ্টেশন সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অবকাঠামো বিদ্যমান। এছাড়া, দোহাজারী রেললাইন জংশন যা কিনা পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। এটা বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের মতে, সরকারের উচ্চ পর্যায় ও নিকার (NICAR) কর্তৃক নীতিগতভাবে অনুমোদিত “দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা” প্রতিষ্ঠা অত্র অঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। দোহাজারী পৌরসভা এবং পার্শ্ববর্তী ৬টি ইউনিয়নের (ধোপাছড়ী, পুরানগড়, বাজালিয়া, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, কেঁওচিয়া ও খাগরিয়া) বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রশাসনিক সেবা সহজতর করতে এই উপজেলা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, পর্যাপ্ত সরকারি খাস জমি ও বিদ্যমান প্রশাসনিক অবকাঠামোর কারণে এখানে নতুন উপজেলা স্থাপন সবচেয়ে যৌক্তিক ও সহজসাধ্য। নতুন এই উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সার্বিক আর্থ-সামাজিক চিত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।