পতেঙ্গা সৈকত হবে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক : ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে আধুনিক ডাস্টবিন ও ওয়াশ ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হবে সৈকত এলাকা। খাবারের মান, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট দোকানকে নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকা দোকানের সংখ্যাও কমানো হবে।

শনিবার পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

কর্মসূচির শুরুতে সৈকত এলাকায় একটি র‍্যালি বের করা হয়। পরে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও নাগরিকেরা ঝাড়ু হাতে সৈকতের ওয়াকওয়ে ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় নাগরিকেরা।

কর্মসূচী চলাকালে জেলা প্রশাসক সৈকতের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখেন। দোকানগুলোর বর্জ্য কোথায় ফেলা হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান তিনি। প্রতিটি দোকানের বর্জ্য নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার পাশাপাশি পর্যটকেরা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলেন, সে বিষয়ে তাঁদের সচেতন করতে দোকানমালিকদের নির্দেশ দেন।

পরে সাংবাদিকদের জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে সৈকতের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা যায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পতেঙ্গা সৈকতকে আধুনিক ও মনোরমভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হবে। আধুনিক ডাস্টবিন ও প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হবে। আমরা এর একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই।’

পর্যটকদের নির্মল আনন্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পতেঙ্গা সৈকতকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, পুলিশ ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।