পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আবাম এতিম উৎসব-২০২৬’।
আবাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উদ্যোগে গতকাল নগরীর অক্সিজেন এলাকার মীম কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ ব্যতিক্রমধর্মী উৎসবের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দেশের আরো ৬টি জেলার ৮৫০ জন এতিম ও কুরআনের হাফেজদের জন্য সেহেরী ও ইফতারে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।
সংগঠনের সভাপতি শামসুল আলম খান মুরাদের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মহিম মিজানের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন আজীবন সদস্য নুরুল কবির মানিক ও চট্টগ্রামের আল- হামি ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম শহরের ১১টি হেফজ ও এতিমখানার প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। তাদের জন্য সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্বেরাত, হামদ-নাত ও সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় তিনটি ক্যাটাগরিতে ৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আবাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ উল্লাহ। এ সময় সামাজিক সংগঠন স্মাইল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নজরুল ইসলাম জয়, আবাম ফাউন্ডেশনের অর্থ সম্পাদক আকন্দ হাসান, সহ-অর্থ সম্পাদক রবিউল বিন মোস্তফা, সদস্য আহসান হাবিব, ফজল করিম, রহিম উল্লাহ, ফয়েজ উদ্দিন, নুরুল হোসাইন, তামজিদ, আবিদ, আবদুন নুর, তুষার, জোবায়ের সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে আবাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি শামসুল আলম খান মুরাদ বলেন, “এতিমরা সমাজে অনেক অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত থাকে, তাই তাদের জন্য এই ধরনের আয়োজন করলে এতিমদের অধিকারের ব্যপারে সবাই সোচ্চার হবে। এছাড়াও তিনি সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন। পাশাপাশি উৎসবে অংশগ্রহণকারী হেফজ ও এতিমখানার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অতিথি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ইন শা আল্লাহ্, প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল মিলাদুন্নবী (সাঃ) দিনে এই আয়োজন ধারাবাহিকভাবে উদযাপিত হবে বলে ঘোষণা দেন।”
আয়োজকরা জানান, এতিম ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল ‘আবাম এতিম উৎসব ২০২৬’-এর মূল উদ্দেশ্য।