মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হয়ে ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে জাহাঙ্গীর

সেদিনও হয়তো অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল সকালটা। প্রয়োজনের তাগিদে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ৬১ বছর বয়সী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু ঠাকুরদিঘী এলাকায় ঢকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি অজ্ঞাত মোটরসাইকেলের ধাক্কা মুহূর্তেই বদলে দেয় তাঁর জীবন, বদলে যায় একটি পরিবারের গল্প। গত ১০ আগস্ট সকালে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর আলম। মাটিতে লুটিয়ে পড়া জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শুরু হয় তাঁর বেঁচে ফেরার লড়াই।

একদিকে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন জাহাঙ্গীর, অন্যদিকে স্বজনরা দিন-রাত প্রহর গুনছিলেন—কখন প্রিয় মানুষটি সুস্থ হয়ে আবার বাড়ি ফিরবেন। প্রতিটি মুহূর্তে ছিল উৎকণ্ঠা, ছিল বেঁচে ফেরার প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো না। ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ আগস্ট হাসপাতালে মারা যান জাহাঙ্গীর আলম। নিহত জাহাঙ্গীর আলম মিরসরাই উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভরদ্বাজহাট এলাকার হাফেজ বাড়ির মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

যে মানুষটিকে সুস্থ করে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা, শেষ পর্যন্ত তাঁর মরদেহই ফিরেছে বাড়িতে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শরিফুজ্জামান বলেন, গত ১০ আগস্ট ঠাকুরদিঘী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।