এক সময়ের আওয়ামীলীগের দাপুটে নেতা রঘুপতি সেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের অনুসারীর প্রভাব খাটিয়ে দখলে নেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদ। আছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদেও। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের সমর্থন আদায়ে জোর লবিং করেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন পালিয়ে যান এলাকা ছেড়ে। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে হঠাৎ মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেন আওয়ামীলীগ নেতা রঘুপতি সেন। এরই মাঝে নির্বাচনী গণসংযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গেও দেখা যায় তাকে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম-১৩ আসনের বিএনপির নির্বাচিত সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম এমপির পা ছুঁয়ে সালাম করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উঠে আলোচনা ও সমলোচনার ঝড়। এরপর এলাকায় পুনঃরায় সক্রিয় হয়ে উঠেন রঘুপতি সেন। নির্বাচনেরপর তিনি আবারও ভূমি দখলে মেতে উঠেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের কৈনপুরা এলাকার মৃত ভঙ্খিম চন্দ্র দত্তের ছেলে অসুখ কুমার দত্তের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৬ শতক জমি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন আওয়ামীলীগ নেতা রঘুপতি সেন। সে ওই এলাকার নেপাল চন্দ্র সেনের পুত্র।
ভুক্তভোগী অসুখ কুমার দত্ত (৮৫) অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির ৬৬ শতক জমি আমার ভাতিজা থেকে রেজিস্ট্রি নিয়েছেন দাবী করে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রঘুপতি সেন দখল করে নেন। অথচ এই পৈত্রিক সম্পত্তির মালিক আমরা চার ভাই। রঘুপতি আমার বড় ভাইয়ের ছেলে রঞ্জন দত্ত থেকে দানপত্র দেখিয়ে রেজিস্ট্রি নেন। এই জমি নিয়ে আমাদের ভাইদের মধ্যে ২০০৮ সাল থেকে মামলা চলছে। রঘুপতি সেন এই জমি ক্রয় করলেও দখলে আসতে পারেনি। কিন্তু হঠাৎ করে কিছুদিন আগে তিনি লোকজন নিয়ে এই জমিতে নিজের নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। আমরা এখন অসহায়। রঘুপতি আগে আওয়ামীলীগ নেতা ছিল এখন বিএনপি নেতা, তার ক্ষমতা আছে। এই বৃদ্ধ বয়সে আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রঘুপতি সেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের অনুসারী ছিলেন। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক পদে থাকাকালীন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত;। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদেও আওয়ামীলীগের হয়ে লড়তে চেয়ে ছিলেন, তৎকালীন সময়ে সব কিছুতে তার দাপট থাকত। ভূমিমন্ত্রীর আস্থাভাজনে কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতিও ছিলেন তিনি। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকরের পতনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। সম্প্রতি চট্টগ্রাম-১৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের পায়ে ধরে সালাম করে এলাকায় ফিরে আসেন এবং নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। তার এমন কর্মকান্ডে এলাকার নির্যাতিত নেতাকর্মীরা হতাশা বিরাজ করছে।
জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রঘুপতি সেন মুঠোফোনে বলেন, ‘ক্রয়মূলে জমিটির মালিক আমি। রেজিস্ট্রী দলিল ও ভূমি অফিসের নামজারীও রয়েছে আমার নামে। আমার ক্রয়কৃত জমিতে অবৈধভাবে অভিযোগকারী দখলে রেখেছেন দাবী করে তিনি বলেন, এসব চলমান মামলা গুলোতে আদালত আমার পক্ষে রায়ও দিয়েছেন। তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘জমি দখলের ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত নেতৃবন্দরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৈনপুরা এলাকার একটি পূর্জামন্ডবে পরিদর্শনে যান এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম। এসময় মানুষের ভীড়ের মধ্যে ওই আওয়ামীলীগ নেতা এমপির পা ছুঁয়ে সালাম করেন। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উঠে আলোচনা ও সমলোচনার ঝড়। আনোয়ারা-কর্ণফুলীর ক্লিন ইমেজের এমপি সাহেবের ভাবমূর্তিক্ষুন্ন করার উদ্যোশে পদধারী এই আওয়ামী লীগ নেতা এমন কান্ড ঘটিয়েছেন। তবে বিএনপির রাজনীতির মাঠে এসব অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হবে না। তাদের কঠোর হাতে দমন করবে নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের কাছে আহবান এসব পদধারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের।