বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ কৃষক পেলেন ১৯ লাখ টাকার চেক

‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’– প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা এবং বন্যহাতিদ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা, প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সরকারি আলাওল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আজিজুর রহমান, নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. শাহজাদা জুলকার নাইন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সাংবাদিক শিব্বির আহমদ রানা ও প্রকাশ বড়ুয়া।

সভায় বক্তারা বলেন, হাতি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন ও হাতির আবাসস্থল রক্ষা, হাতি-মানুষের সংঘাত কমানো এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। হাতির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করতে বন সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল রোধেও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

অনুষ্ঠানে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ জন কৃষকের মধ্যে সরকারি অনুদান হিসেবে মোট ১৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাগভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার এবং শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বনকর্মী, শিক্ষক, সংবাদকর্মী, সমাজকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাঁশখালীতে গত এক দশকে বন্যহাতির আক্রমণে অন্তত ১২ থেকে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি বন্যহাতিরও মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বনাঞ্চলে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি বন্যহাতি বিচরণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।