বন্দরের টার্মিনাল বিদেশী কোম্পানিকে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে: নাগরিক সমাবেশে বক্তারা
“চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক ও সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও,বিদেশী কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদীদের এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেযাদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিউমুরিং টার্মিনাল ও লালদিয়য়ার চর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।বিনা প্রতিরোধে এ চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বন্দর এলাকায় একমাসের জন্য সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। আওয়ামীলীগ সরকার বিনা টেন্ডারে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং টার্মিনাল তুলে দেওয়ার আয়োজন সম্পন্ন করেছিল।গণঅভ্যুত্থানের পরও বর্তমান সরকার কেন আওয়ামীলীগের এ চক্রান্ত বাস্তবায়নের কাজ এগিযে নিচ্ছে,তার জবাব সরকারকে দিতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায় আজ চট্টগ্রামের নাগরিক,শ্রমিক,পেশাজীবী,ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচী দিয়ে দেশবিরোধী এ তৎপরতা প্রতিহত করা হবে।”
লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে ‘বন্দর রক্ষায় চট্টগ্রামের শ্রমিক-ছাত্র-পেশাজীবী-নাগরিকবৃ ন্দ’ এর আহবানে আজ ২৫ অক্টোবর,সকাল ১১টায চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।সমাবেশে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,শ্রমিক সংগঠন,ছাত্র সংগঠন,সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গণমুক্তি ইউনিযন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদ আলম,স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক রিজওয়ানুর রহমান,বাসদ(মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক এড শফি উদ্দিন কবির আবিদ,বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সেক্রেটারি ইব্রাহিম খোকন,ডক শ্রমিক দলের সেক্রেটারি আখতারউদ্দিন সেলিম,জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন সেক্রেটারি জাহিদউদ্দিন শাহীন, গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্রের মশিউর রহমান খান, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার পরিষদের প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক,বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সেক্রেটারি জাহেদুন্নবী কনক,জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নেতা সাইফুর রুদ্র,বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সভাপতি হুমাযুন কবির,আবদুল্লাহ আল মামুন,গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সভাপতি ধ্রুব বড়ুয়া,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগর দফতর সম্পাদক লাবণী আকতার।সমাবেশ পরিচারনা করেন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সত্যজিৎ বিশ্বাস।
নেতৃবৃন্দ বলেন,”চট্টগ্রাম বন্দর বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার উপর লাভে আছে।তারপরও বিদেশী কোম্পানির হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার আগে তাদের মুনাফা নিশ্চিতের জন্য সরকার বন্দরের ট্যারিফ ৪১% বাড়িয়েছে। অথচ একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার ও ন্যায্যতা নেই।কিন্তু বর্তমান সরকার যেরকম তড়িঘড়ি ও কারও মতামতের তোয়াক্কা না করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে,তাতে প্রবল সন্দেহ গনীভূত হয়ে উঠেছে,সরকার কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে? অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে একাধিক বন্দর নেই,দেশের সিংহভাগ আমদানি রপ্তানি যে বন্দর দিয়ে হয়,সে বন্দর বিদেশী কোম্পানিকে কেউ তুলে দেযনা।এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থানগত কারণে এর সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব- নিরাপত্তার কৌশলগত প্রশ্নও যুক্ত।একারণেই আমরা দাবি তুলেছি,চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত জাতীয় সম্পদ বিদেশীদের না,বেসরকারীকরনও না,জাতীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালনা করতে হবে।“
সমাবেশ থেকে বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে না দেওয়ার দাবিতে বাম গনতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বামমোর্চার ডাকে আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ১লা নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে সকালে শ্রমিক- কর্মচারী ঐক্য পরিষদ(স্কপ) আহুত অনশন ধর্মঘট কর্মসূচীর প্রতি সংহতি জানানো হয়।