কঠিন সাধনা আর অধ্যবসায়ে মনোযোগীরাই সফলতা পায় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। সফলতার আরেকটি নিয়ামক হচ্ছে নিয়মানুবর্তিতা। নিয়ম করে পড়তে হবে, স্কুলে যেতে হবে, খেলাধুলা করতে হবে, পড়ালেখার বাইরে দেশ বিদেশের জ্ঞান অর্জন করতে হবে সর্বোপরি নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চলতে হবে। এসব শিখতে হলে যারা সফল হয়েছেন, আলো ছড়িয়েছেন তাদের অনুকরণ করতে হবে। আলোকিত মানুষরাই সফলতার পথ দেখায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এফসিএ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সীতাকুন্ড সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে “আলহাজ্ব গোলাম হোসেন স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫এর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
আসলাম চৌধুরী বলেন, পড়া লেখাসহ কোনো কাজই কঠিন নয়। প্রয়োজন যথাযথ চর্চা, অনুশীলন আর গুরুজনদের নির্দেশনা অনুসরণ। বৃত্তির পুরষ্কার আহামরি তেমন কিছু নয় কিন্তু শিক্ষার্থী অভিভাবক শিক্ষকদের মধ্যে একটা আন্তঃযোগাযোগ বা ভাববিনিময়ের একটা দারুণ উপলক্ষ। তাই যতদিন সৃষ্টিকর্তা সামর্থ্য এবং সুযোগ দেয়, ততদিন এ বৃত্তি অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, গর্ব করার মতো ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এই জন্য সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। স্বপ্ন অনেক বড় থাকবে। ধাপে ধাপে এ লক্ষ্য অর্জনে কঠিন দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সফলতা সহজলভ্য কিছু নয়, প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রবল ইচ্ছা শক্তি। এখানে পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা বাধা হয়না।
চার পর্বের আয়োজনের প্রথম পর্বে ছিলো দুটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষা গ্রহণ, দ্বিতীয় পর্বে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাঁচ মিশালী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তৃতীয় পর্বে ছিলো শিক্ষা সেমিনার ও আলোচনা সভা বিষয়: ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক সেমিনার এবং শেষ পর্বে গুণীজন সংবর্ধনা। এতে বিখ্যাত সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী, সীতাকুণ্ড পৌরসভার মহাদেবপুর এলাকার বাসিন্দা মরহুম মিজানুল হক চৌধুরীর পরিবারকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে মিজানুল হক চৌধুরীর সন্তান ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী উপস্থিত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন এবং নিজের পিতার কর্মকান্ড নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
জেএএম সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত এই বৃত্তি পরীক্ষায় এবার ৯৯২জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে ৫জন মেধায়, ১২ জন ট্যালেন্টপুলে, ১২জন সাধারন গ্রেডে মোট ২৯জন বৃত্তি অর্জন করেন।
সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নজির আহমদ এর সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ ওবাইদুল করিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম টিপু।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা: কমল কদর, জয়নাল আবেদীন দুলাল, জাকির হোসেন, জহুরুল আলম জহুর, ফজলুল করিম চৌধুরী, বখতিয়ার উদ্দিন প্রমুখ।
পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।