মিরসরাইয়ে রূপসী ঝর্ণায় ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মিরসরাইয়ে রূপসী ঝর্ণার ক‚প থেকে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে ৮ টায় উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কমলদহ রূপসী ঝর্ণায় নিখোঁজ হয় দুই শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের সদস্যরা দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ক‚প থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মাদারীপুর জেলার চাষাড়া এলাকার আতিকুর রহমানের ছেলে মুসফিকুর রহমান আদনান (২১) ও লক্ষীপুর জেলার মৃত মুরাদের ছেলে মাহবুব রহমান মুত্তাকিম (২১)। আদনান ঢাকা ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও মুত্তাকিম নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮ টায় ১১ জন বন্ধু মিলে মিরসরাই উপজেলার কমলদহ রূপসী ঝর্ণায় ঘুরতে আসেন। এসময় ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে ঝর্ণার ক‚পে পড়ে যায় মুশফিকুর রহমান আদনান। এসময় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে মাহবুব রহমান মুত্তাকিমও ক‚পে পড়ে যায়। বন্ধুরা ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারের ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে তারা স্থানীয়দের সহায়তায় মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ঝর্ণার ক‚প থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

নিহত আদনানের খালাত ভাই আফিফুর রহমান বলেন, আমার খালাত ভাই ও এলাকার এক ছোট ভাই ১৩ জন মিলে মিরসরাইয়ের রূপসী ঝর্ণায় ঘুরতে আসি। ঝর্ণার ক‚পে গিয়ে ছবি তোলার সময় মুত্তাকিম পড়ে গেলে আমার খালাত ভাই আদনান তাকে উদ্ধার করতে গেলে সেও ক‚পে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ঝর্ণার ক‚প থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, শুক্রবার সকালে রূপসী ঝর্ণায় ২ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরবর্তীতে আমাদের সাথে যোগ দেন আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের ৫ সদস্য। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা পর ঝর্ণার ক‚প থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে মিরসরাই থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল কাদের বলেন, মিরসরাইয়ের রূপসী ঝর্ণায় পা পিছলে পড়ে দুই বন্ধু নিহত হয়। তাদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিবারের কাছে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।