ভাঙ্গায় ইকামাতেদ্বীন মাদ্রাসায় আর্থিক অনিয়মে ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর ইনডেক্স কর্তন, ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

​ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলাধীন ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসায় (আলিম স্তর পর্যন্ত এমপিওভুক্ত) ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

এ বিষয় সরকারি কোষাগার থেকে নিয়ম বিধি বহির্ভূতভাবে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ টাকা অর্থ উত্তোলনের দায়ে মাদ্রাসার ফাযিল ও কামিল স্তরের ১৯ জন প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক ও কর্মচারীর ইনডেক্স কর্তন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে উত্তোলিত সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা সহ সকল শিক্ষক ও সরকারি দপ্তরে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

​নোটিশটি গত ০৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক স্মারকে এই নোটিশ জারি করা হয়।

​নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির গত ১৬/০৬/২০২৬ তারিখের সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বমোট ১,৪৪,০০,০৪৮/- (এক কোটি চুয়াল্লিশ লক্ষ আটচল্লিশ) টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন করেছেন।

​নির্ধারিত ০১ (এক) মাসের মধ্যে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে এই অর্থ জমা দিয়ে চালানের মূল বা সত্যায়িত কপি অধিদপ্তরে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত প্রদানে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পিডিআর (PDR) আইনের বিধান অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

​তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের মুল নায়ক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ মির্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ সমস্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়ম বহির্ভূক্তভাবে কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগ পাওয়ার যাবতীয় কাজকর্ম করে দিয়েছেন। তিনি চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভাঙ্গা থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি সহ তার বিরুদ্ধে আরো মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয় সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের একজন বড় মাপের নেতা ছিলেন। এই বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন।

তিনি রাজনৈতিক পদবি ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় আধিপত্য বিস্তার করে প্যাটার্ন বহির্ভূত এই ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী দিনের পর দিন সরকারি কোষাগার থেকে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নোটিশ অনুযায়ী ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী অত উত্তোলনের পরিমাণ, নাম ও পদবি নিচে দেওয়া হলো- মোঃ ফারুক হোসেন (প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস) – ২১,৩৫,৫৪১ টাকা। মোঃ কুদরাতুর রহমান (প্রভাষক, বাংলা) – ১৮,০১,১০২ টাকা। ফকরুল ইসলাম (প্রভাষক, ইংরেজি) – ১৮,০১,১০২ টাকা। মোঃ রাশেদুল ইসলাম (প্রভাষক, আরবী) – ১০,৬০,৩০২ টাকা। ​মোঃ আল আমিন (প্রভাষক, আরবী) – ৭,৫১,২৪২ টাকা।  ​মোঃ সরোয়ার হোসেন (প্রভাষক, গ্রন্থাগারিক) – ৭,৫১,২৪২ টাকা।

​মোঃ আজিজুল হক (প্রভাষক, ফকিহ) – ৬,৪৩,৩৭০ টাকা। ​জাহিদ হোসেন (প্রভাষক, ফকিহ) – ৬,৪৩,৩৭০ টাকা।

​মোঃ মহিবুর রহমান (প্রভাষক)- ৬,৪৩,৩৭০ টাকা। মোঃ নুরুন্নবী (সহকারী মৌলভী) – ৬,২৭,৭০২ টাকা।  কাজী আল মাসুদ (অফিস সহকারী কম্পিউটার অপারেটর) – ৪,৮১,৯৮৩ টাকা। মহিউদ্দিন (সহকারী গ্রন্থাগারিক) – ৪,৭৭,৩১৫ টাকা।

​মোঃ মাসুম বিল্লাহ (৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী) – ৪,৩৪,১৭৫ টাকা।

​হামীব গাজী (৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী) – ৪,৩৪,১৭৫ টাকা। নাছরিন (জুনিয়র শিক্ষক) – ৩,৬৪,৪৫৩ টাকা।

​মোঃ নাজমুল ইসলাম (পরিচ্ছন্নকর্মী) – ৩,৪৯,৪০৭ টাকা। মোঃ রেজাউল মিয়া (ল্যাব সহকারী, পদার্থ) – ৩,৩৫,৯৯১ টাকা। সাম্মি আক্তার (ল্যাব সহকারী, জীববিজ্ঞান) – ৩,৩৫,৯৯১ টাকা।

মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী) – ৩,২৮,২১৫ টাকা।

​এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও ফেরতের নির্দেশের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মুক্তার হোসেন জানান, ভাঙ্গা ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল মাদ্রাসার ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর ইনডেক্স কর্তন এবং ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এসংক্রান্ত একটা চিঠি আমি অনলাইনে দেখেছি কিন্তু হার্ডকপি এখনও হাতে পাইনি। কপিটা হাতে পেলে আমি ইউএনও  মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে এবং তার নির্দেশ ক্রমে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।